পর্তুগালে পণ্যের দাম কমাতে নতুন অর্থবছরে ৩ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (৩৪ মিলিয়ন ইউরো) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় ফার্নিচার ব্র্যান্ড আইকেয়া। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় যখন সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই এই মূল্য হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের শুরুতে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকবে ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা এবং স্টোরেজ সলিউশন বা সংরক্ষণ সমাধানগুলোর দাম কমানো। আইকেয়া জানিয়েছে, পর্তুগিজ পরিবারগুলোর জন্য এটি অন্যতম একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
পর্তুগালে আইকেয়ার ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিটেইল ম্যানেজার এরিণ শি বলেন, ‘আমরা জানি যে পর্তুগালের পরিবারগুলো বর্তমানে তাদের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করবে, তা নিয়ে বেশ কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসনের ওপর চাপ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিটি ইউরোই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করা আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। আর ঠিক সে কারণেই আমরা বিভিন্ন পণ্যের দাম কমাতে ৩ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করছি। আমরা চাই আরও বেশি মানুষ সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত ও সুন্দর ডিজাইনের পণ্যের মাধ্যমে তাদের একটি সুন্দর বাড়ি গড়ে তুলতে পারুক।’
কোম্পানিটি ঘরের উপলব্ধ জায়গার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ ও গুছিয়ে রাখার পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে। এছাড়া রান্নাঘর বা কিচেন সামগ্রীর ওপর তাদের জোর অব্যাহত থাকবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে পর্তুগালে প্রতিদিন গড়ে ১০০টিরও বেশি রান্নাঘর বিক্রি করেছে আইকেয়া।
বর্তমান অর্থবছরের মধ্যেই পর্তুগালে নতুন আরেকটি স্টোর চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইকেয়া। তবে নতুন এই স্টোরটির অবস্থান ও উদ্বোধনের তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, যা শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত আগস্টে পর্তুগালে তাদের ষষ্ঠ শাখা হিসেবে ‘আইকেয়া কোইম্ব্রা’ চালুর পর এই সম্প্রসারণের ঘোষণা এল। উদ্বোধনের পর প্রথম মাসেই এই স্টোরটিতে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেছিলেন। নতুন এই শাখাটি তুলনামূলকভাবে ছোট বা কমপ্যাক্ট ফরম্যাটে তৈরি করা হয়েছে, যা পর্তুগালে আইকেয়ার বিদ্যমান সেবামূলক নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।


