যুক্তরাজ্যের সাধারণ জনগণের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন তুঙ্গে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনের ৬৩২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাত্র চারটি বাদে বাকি সবকটিতেই ভোটাররা ব্রেক্সিট বাতিল করে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
‘বেস্ট ফর ব্রিটেন’-এর উদ্যোগে ‘ইউগভ’ পরিচালিত এই জরিপে ১১,৯২৭ জন ভোটার অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে ফিরে আসাকেই জনগণ সবচেয়ে জনপ্রিয় নীতি হিসেবে দেখছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ ভোটার সরকারের কাছে ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার আশা করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান হলো ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা (রেড লাইন) মেনে। জরিপে মাত্র ১৮ শতাংশ ভোটার সরকারের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঢিলা করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
জরিপের ফলাফল বলছে, ইইউর সদস্যপদ ফিরে পাওয়া এখন সব নির্বাচনি এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি। কেবল ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং ‘রিস্টোর ব্রিটেন’-এর দখলে থাকা চারটি আসনে—অ্যাশফিল্ড, ক্ল্যাকটন, গ্রেট ইয়ারমাউথ এবং বস্টন অ্যান্ড স্কেগনেস—ভোটাররা সুনির্দিষ্ট কোনো মত না দিয়ে ‘জানি না’ উত্তরটি বেশি পছন্দ করেছেন।
‘বেস্ট ফর ব্রিটেন’-এর পলিসি ও রিসার্চ ডিরেক্টর টম ব্রুফাতোর মতে, এই জরিপ সব রাজনৈতিক দলের জন্যই একটি পথনির্দেশক। তিনি বলেন, “মধ্য ইংল্যান্ডের গাড়ি নির্মাতারা হোক কিংবা কেন্টের উপকূল—প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটাররাই এখন যুক্তরাজ্যের স্থান ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখছেন।” তাঁর মতে, স্বাধীন অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইইউর সদস্যপদ ব্রিটিশ অর্থনীতিতে অন্তত ৯২ বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত করতে পারে, যা সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এজেন্ডাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে গত শুক্রবার আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইউরোপে আমরা এই বছরের শেষদিকে একটি যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের অপেক্ষায় আছি। আয়ারল্যান্ডের সভাপতিত্বে আমরা ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাই।”
জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং গ্রিন পার্টির ভোটারদের মধ্যে ইইউতে ফেরার সমর্থন সবচেয়ে বেশি (যথাক্রমে ৫৫, ৫৬ ও ৬৭ শতাংশ)। স্কটল্যান্ডে এই সমর্থন সবচেয়ে প্রকট। লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি ক্রিস্টিন জার্ডিন এই জরিপের ফলাফলকে ‘অর্থনৈতিক ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “ব্রেক্সিট যে একটি বিশাল অর্থনৈতিক ভুল ছিল, তা এখন পরিষ্কার। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়াই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।”
এছাড়া জনমত জরিপ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর স্যার জন কার্টিসের মতে, ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইইউতে ফেরার পক্ষে জনসমর্থন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, ৬১ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এখন পুনরায় ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ এর বিপক্ষে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা যদি এই সুযোগ কাজে না লাগান, তবে এই জনসমর্থন কোনো কাজে আসবে না। তবে সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইইউর সঙ্গে একটি উচ্চাভিলাষী ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।


