বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেনমার্কের সরকার শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটি ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের ডিজিটালাইজেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত আইন নয়, বরং শিশু ও কিশোরদের ভবিষ্যৎ মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার এক সামাজিক অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত মাসে পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন…

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ঘুম, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাস নষ্ট করছে। তারা এক ভার্চুয়াল চাপের মধ্যে বড় হচ্ছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের উপস্থিতি নেই।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশু নিজ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। তবে ১৩ বছর বয়স থেকে বাবা-মায়ের লিখিত অনুমতি থাকলে শিশুরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে।

এই নীতিটি মূলত স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, থ্রেডস–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং যেখানে মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বেশি।

ডেনমার্ক সরকার শুধু নিষেধাজ্ঞাই দিচ্ছে না, বরং শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা জোরদার করতে ১৬০ মিলিয়ন ড্যানিশ ক্রোন (প্রায় ২১.৪ মিলিয়ন ইউরো) বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে ১৪টি কর্মসূচিতে, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইন হয়রানি ও ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্তে প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিকল্প “নিরাপদ” সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা, ইনফ্লুয়েন্সারদের অবৈধ বাণিজ্যিক প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ, শিশুদের ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির শিক্ষা কার্যক্রম চালু।

এ বিষয়ে ডেনমার্কের ডিজিটালাইজেশন মন্ত্রণালয় বলেছে…

আমরা এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছি, যেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও অ্যালগরিদম শিশুদের আচরণকে প্রভাবিত করছে। এই পরিস্থিতি বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডেনমার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম দেশ, যারা জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণ করছে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ঘোষণা দিয়েছে যে ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের নিচে কোনো শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট অনুমোদন করে, তবে সেই কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩২ মিলিয়ন ইউরো) পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।

ডেনমার্কের উদ্যোগে ইউরোপীয় কমিশনও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন…

অস্ট্রেলিয়া এবং এখন ডেনমার্ক শিশুদের অনলাইন জীবনে সুরক্ষা ফিরিয়ে আনতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ডেনমার্কের ডিজিটালাইজেশন মন্ত্রী ক্যারোলিন স্টেজ বলেছেন…

আমরা এমন এক যুগে আছি, যেখানে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর ধরে শিশুদের কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করেছে। এখন সময় এসেছে তাদের সীমানা নির্ধারণ করার।

তিনি আরও যোগ করে বলেন…

এই বয়সসীমা নির্ধারণ শুধু আইন নয়, এটি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version