জার্মানির নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও দেশটির সিংহভাগ নতুন নাগরিক তাদের আগের দেশের মূল নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা বজায় রাখছেন। ‘মিডিয়ান্ডিয়েনস্ট ইন্টিগ্রেশন’ নামক একটি গবেষণা গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই নজিরবিহীন তথ্য উঠে এসেছে। জার্মানির পূর্ববর্তী সরকার দেশটির অভিবাসীদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব (ডুয়াল সিটিজেনশিপ) রাখার অনুমতি দিয়ে আইন পরিবর্তন করার ঠিক এক বছর পর এই সমীক্ষাটি প্রকাশ করা হলো। তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে ৮৫ শতাংশেরও বেশি নতুন জার্মান নাগরিক তাদের মূল জাতীয়তা ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গবেষণা দলটি জানিয়েছে, তথ্য সংগ্রহ করা শহরগুলোতে গত ২০২৫ সাল নাগাদ একাধিক জাতীয়তা সম্পন্ন নতুন নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের এই সংখ্যাটি মূলত ৮৫% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯৮% পর্যন্ত ছিল।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা জার্মানির পাসপোর্ট পাওয়ার সময় নিজেদের মূল জাতীয়তা বজায় রাখতে পারেননি, তারা মূলত রাষ্ট্রহীন ছিলেন অথবা ভারত, ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মতো এমন সব দেশ থেকে এসেছিলেন যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালে জার্মান সরকার তাদের নাগরিকত্বের ঐতিহাসিক সংস্কার এনে সবাইকে দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার অনুমতি দেয়, যা আগের নিয়মে শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং সুইস নাগরিকদের মতো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর জন্যই প্রযোজ্য ছিল। এই আইনের আওতায় নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য জার্মানিতে বসবাসের প্রয়োজনীয় সময়সীমাও আট বছর থেকে কমিয়ে মাত্র পাঁচ বছর করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ জার্মান নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার মধ্যে বৃহত্তম গোষ্ঠী ছিল সিরীয়রা এবং এরপরই রয়েছে তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইরান ও রাশিয়ার নাগরিকরা। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষ দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করছেন, যাদের ৭০ শতাংশই অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের নাগরিক।
তবে নাগরিকত্ব আইনের এই যুগান্তকারী সংস্কারের ফলে জার্মানির বড় বড় শহরগুলোতে নতুন আবেদনের সংখ্যা একলাফে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামাল দিতে গিয়ে প্রশাসনিক হিমশিম ও দীর্ঘ অপেক্ষার সময় তৈরি হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালে নাগরিকত্বের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়েছিল—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম তবুও পূর্বের জমে থাকা বিপুল আবেদনের জট এখনো কাটেনি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বার্লিনে সর্বাধিক ৩৬,১০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এরপরই মিউনিখে রয়েছে ১৭,৮০০টি আবেদন। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-র সর্বশেষ তথ্যমতে, মে মাসের শুরুতে শুধুমাত্র মিউনিখ শহরেই ৪০ হাজারেরও বেশি নাগরিকত্বের আবেদনপত্র সম্পূর্ণ অমীমাংসিত বা ঝুলে থাকা অবস্থায় ছিল।
তথ্যসূত্র: ডি ডব্লিউ
