ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের চারটি মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে মিউজিয়াম অব মেসিনা থেকে শিল্পকর্মগুলো নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া চিত্রকর্মগুলোর আর্থিক মূল্য ‘অনেক বেশি’।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া চারটি শিল্পকর্মের মধ্যে তিনটি প্যানেল রয়েছে পঞ্চদশ শতকের বিখ্যাত ইতালীয় শিল্পী আন্তোনেল্লো দা মেসিনার ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর। অন্যটি তাঁর আঁকা ‘ম্যাডোনা উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’-র একটি দ্বিমুখী প্যানেল।
পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে চোরেরা জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অ্যালার্ম এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কালোবাজারে শিল্পকর্ম পাচারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে এগুলো চুরি করা হয়েছে।
‘ম্যাডোনা উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ ২০১৬ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামেও প্রদর্শিত হয়েছিল। জাদুঘরের একটি নিরাপদ প্রদর্শনী কেসের ভেতর থেকে এটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কাঠের প্যানেলে আঁকা হওয়ায় চিত্রকর্মগুলো সহজে গুটিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকিউরো জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে চুরিটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এই ঘটনায় শুধু জাদুঘর নয়, মেসিনা শহর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং পুরো শিল্পজগতই ‘বড় ক্ষতির’ মুখে পড়েছে।
সিসিলিতে জন্ম নেওয়া আন্তোনেল্লো দা মেসিনা রেনেসাঁ যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত। ১৪৭৩ সালে আঁকা ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এ শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরিকে দেখা যায়। তাঁর পাশে রয়েছেন সেন্ট গ্রেগরি, সেন্ট বেনেডিক্ট ও কয়েকজন দেবদূত। সান্তা মারিয়া মঠের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ‘ম্যাডোনা উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’-র ছোট দ্বিমুখী প্যানেলটির এক পাশে ভার্জিন মেরির কোলে আশীর্বাদরত শিশু যিশু এবং অন্য পাশে মৃত্যুর পর প্রাপ্তবয়স্ক যিশুর ছবি রয়েছে। ছোট আকারের এই শিল্পকর্মটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় উপাসনার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।
চুরির ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে। তাঁর মতে, এটি শহরের মানুষের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে একের পর এক চুরির ঘটনায় মূল্যবান শিল্পকর্মের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ইতালির একটি বিশেষায়িত শিল্প-অপরাধ দমন ইউনিট পার্মার কাছে একটি জাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া পল সেজান, পিয়ের-অগুস্ত রেনোয়া ও অঁরি মাতিসের তিনটি চিত্রকর্ম উদ্ধার করে। এগুলোর সম্মিলিত মূল্য ছিল প্রায় ৯০ লাখ ইউরো।
এর আগে গত বছর প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে দিনের বেলায় ঢুকে একদল চোর প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ ইউরো মূল্যের ঐতিহাসিক গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। পরপর এসব ঘটনায় ইউরোপের জাদুঘরগুলোতে অমূল্য শিল্পসম্পদ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
