“আমরা এমন অভিবাসী আমদানি করছি যারা আদতে নতুন দাসে পরিণত হবে; আমাদের এই পৈশাচিক ফাঁদ থেকে পালাতে হবে।” পর্তুগালের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইস্ট/ইস্ট’-এ অংশ নিয়ে দেশটির বর্তমান অভিবাসন নীতি এবং এর বিকল্প নিয়ে এভাবেই নিজের কড়া মতপ্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সামরিক ভাষ্যকার নুনো রোগেইরো।
অনুষ্ঠানে রোগেইরো ইউরোপের বর্তমান জনসংখ্যার বৈচিত্র্য ও বিন্যাস পর্যালোচনা করেন এবং মহাদেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে এর সমাধান হিসেবে গণ-অভিবাসনকে বেছে নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
পর্তুগালের জন্য একটি বিকল্প সমাধান প্রস্তাব করে তিনি বলেন, “দেশটিকে এখন একটি সঠিক পথ নির্ধারণ করতে হবে। আর তা হলো—বর্তমানে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পর্তুগিজ প্রবাসীদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।” তাঁর মতে, বাইরে থাকা নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনাই হবে বর্তমান অভিবাসন নামক “শয়তানি ফাঁদ” বা “নতুন দাসত্ব” থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র কার্যকর উপায়।
অভিবাসন বিতর্কের পাশাপাশি রোগেইরো পর্তুগালের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়েও সতর্কবার্তা দেন। সম্প্রতি নরওয়েতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নরওয়ের মতো অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি দেশেই যদি শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংসকারী এমন বিপর্যয় ঘটে, তাহলে এখন আগস্ট মাস আসন্ন; পর্তুগালের অবস্থা কী হবে?” মূলত গ্রীষ্মের শুষ্ক মৌসুমে পর্তুগালের দাবানল মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তথ্যসূত্র: এসআইসি নটিসিয়াস


