পর্তুগালে সরকারি প্রশাসনের সাধারণ ক্যারিয়ারভুক্ত কর্মীদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশটির তিনটি সরকারি খাতের শ্রমিক সংগঠন।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর ফেডারেশন সিজিটিপি-এর সঙ্গে যুক্ত ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইউনিয়নস অব পাবলিক অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস ওয়ার্কার্স, ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কার্স অব লোকাল অ্যান্ড রিজিওনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পাবলিক কোম্পানিজ, কনসেশনিয়ার্স অ্যান্ড রিলেটেড এবং ইউনিয়ন অব ওয়ার্কার্স অব দ্য মিউনিসিপ্যালিটি অব লিসবন যৌথভাবে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি প্রশাসনের সাধারণ ক্যারিয়ারে থাকা কর্মীরাই সবচেয়ে কম বেতন পান। এসব কর্মীর বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস, পেশাগুলোর বিশেষত্বের স্বীকৃতি এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অবিলম্বে বেতন নিয়ে আলোচনা শুরুর দাবি জানিয়েছে তারা।
লিসবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের নেতা জোয়াকিম রিবেইরো। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি এটি একটি ‘জরুরি সতর্কবার্তা’। ২০২৭ সাল পর্যন্ত বেতন নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং কর্মীরা ধর্মঘটের মাধ্যমে তা দেখিয়ে দেবেন।
লিসবনে বিক্ষোভ
ধর্মঘটের পাশাপাশি একই দিন সকাল ১১টায় রাজধানী লিসবনে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিরও আয়োজন করেছে ইউনিয়নগুলো।
রিবেইরো বলেন, এই ধর্মঘটে সরকারি প্রশাসনের ‘সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া’ কর্মীরা অংশ নেবেন। তিনি অভিযোগ করেন, লুইস মন্তেনেগ্রোর সরকার সবসময় সাধারণ ক্যারিয়ারভুক্ত কর্মীদের দাবিকে সবচেয়ে শেষে গুরুত্ব দেয়।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ ক্যারিয়ারভুক্ত কর্মীরা অন্য কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠীর চেয়ে বেশি নন, আবার কমও নন।’ তাঁর দাবি, সরকারি প্রশাসনে যেসব কর্মী সবচেয়ে কঠিন আর্থিক পরিস্থিতিতে আছেন, তাদের অনেকেই জাতীয় ন্যূনতম মজুরির কাছাকাছি বেতন পান। ফলে তাদের বেতন কাঠামোও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে অপারেশনাল সহকারীদের অনেকে জাতীয় ন্যূনতম মজুরির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রিবেইরো বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, নগর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য সংগ্রহ, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, রেজিস্ট্রি ও নোটারি সেবা এবং বিচারব্যবস্থার কর্মীরাই প্রতিদিন সরকারি সেবা সচল রাখছেন।
ধর্মঘটে বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা
ধর্মঘটে ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে ইউনিয়নগুলো। রিবেইরো বলেন, সরকারের ওপর চাপ তৈরির এটি একটি সুযোগ। বিশেষ করে ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনের আগে এ ধর্মঘট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ওই বাজেট প্রস্তাব সংসদে জমা দেওয়ার কথা।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার সরকারি সেবা বন্ধ থাকতে পারে, বহু স্কুল বন্ধ হতে পারে এবং বর্জ্য সংগ্রহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হবে—এ বিষয়টি স্বীকার করে রিবেইরো বলেন, কর্মীরা এমন একটি জনসেবা নিশ্চিত করার জন্যই ধর্মঘট করছেন, যাতে সেই সেবা আরও ভালোভাবে দেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বেতন বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে কর্মীদের মধ্যে এমন অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে, ‘মাস যত বাড়ছে, বেতন তত কম মনে হচ্ছে।’
ইউনিয়নগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের সাধারণ ক্যারিয়ারে প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার অপারেশনাল সহকারী, ৯২ হাজার টেকনিক্যাল সহকারী এবং ৮৮ হাজার সিনিয়র টেকনিশিয়ান।


