পর্তুগালের স্থানীয় সরকার বা পৌরসভাগুলো [মিউনিসিপ্যাল] এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই জনস্বার্থে যেকোনো সম্পত্তি অধিগ্রহণ (বাজেয়াপ্ত) করতে পারবে। গত মঙ্গলবার দেশটির অফিশিয়াল গেজেটে প্রকাশিত ‘এক্সপ্রোপ্রিয়েশন কোড’ বা উচ্ছেদ ও অধিগ্রহণ বিধিমালার সংশোধনীতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পর্তুগালের গণমাধ্যম ‘ইকো’ -র তথ্য অনুযায়ী, নতুন ডিক্রি-আইনটি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রস্তাবিত সম্পত্তি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলি বা স্থানীয় পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছে। সরকার বলছে, এটি দেশের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের আরেকটি বড় ধাপ।
এ পর্যন্ত, পৌরসভার সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য জনস্বার্থ বা জনকল্যাণের ঘোষণা দিতে সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। তবে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা অথবা ‘ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন প্রোগ্রাম’ এবং ‘রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্ল্যান’ -এর অধীনে পরিচালিত কিছু বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না।
নতুন এই সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সেই ক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করা হলো, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নেওয়া সমস্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণের জনস্বার্থ সংক্রান্ত ঘোষণা মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলিগুলো নিজেই অনুমোদন করতে পারবে।
সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আরও কাছাকাছি আসবে, যা পৌরসভাগুলোকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার পাশাপাশি কাজের তদারকি বাড়াবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
ডিক্রি-আইনে বলা হয়েছে, ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলির কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় চাহিদার মধ্যে নিকটবর্তী সংযোগ তৈরি হবে, যা এই প্রক্রিয়াটিকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি এবং গতিশীলতা প্রদান করবে।’
সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি প্রতিটি পৌরসভার সুনির্দিষ্ট চাহিদার সাথে সরকারি নীতিগুলোর আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
যেসব ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রভাব দুই বা ততোধিক পৌরসভার ওপর পড়বে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের যৌক্তিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রতিটি মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলি বা স্থানীয় পরিষদ কর্তৃক এই জনস্বার্থের ঘোষণা আলাদাভাবে অনুমোদিত হতে হবে।
ক্ষতিপূরণ ও মালিকদের অধিকার অপরিবর্তিত
তবে এই সংস্কারের ফলে সম্পত্তির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। ডিক্রি-আইনে কেবল সম্পত্তি অধিগ্রহণকে জনস্বার্থে ঘোষণা করার জন্য কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে, সেই প্রশাসনিক দায়িত্বটি পরিবর্তন করা হয়েছে; বিদ্যমান ক্ষতিপূরণের নিয়মগুলো আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাহিদা মেটাতে আরও বেশি সক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের আঞ্চলিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।


