উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে জনস্বাস্থ্যের মানে বড় ধরণের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে যুক্তরাজ্যে। প্রভাবশালী সংস্থা ‘হেলথ ফাউন্ডেশন’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে মানুষের সুস্বাস্থ্যের সাথে বেঁচে থাকার গড় সময় বা ‘হেলদি লাইফ এক্সপেকটেন্সি’ প্রায় দুই বছর কমেছে। বর্তমানে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই গড় বয়স ৬১ বছরের নিচে নেমে এসেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য এক অশনিসংকেত। বিশ্বের ২১টি ধনী দেশের তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখন ২০তম, যার নিচে রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র। লন্ডনের রিচমন্ডে একজন মানুষ গড়ে ৬৯ থেকে ৭০ বছর সুস্থ থাকলেও, ব্ল্যাকপুল বা হার্টলপুলের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে এই বয়স নেমে এসেছে মাত্র ৫১ বছরে। অর্থাৎ, অঞ্চলের ভেদে সুস্বাস্থ্যের ব্যবধান প্রায় ২০ বছরের। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যের ৯০ শতাংশ এলাকাতেই স্বাস্থ্যকর আয়ু এখন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বয়সের (৬৬-৬৭ বছর) নিচে। এর অর্থ হলো, মানুষ অবসরে যাওয়ার অনেক আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা ব্রিটিশ সরকারকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মক্ষম শ্রমশক্তি হারানোর সংকটে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমাত্রার স্থূলতা, অনুন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী। হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রধান ডাটা অ্যানালিস্ট অ্যান্ড্রু মুনি সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা মানুষকে কেবল শ্রমবাজার থেকেই ছিটকে দিচ্ছে না, বরং তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকেও ব্যাহত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিকারের চেয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় ব্রিটিশ সরকারকে বড় ধরণের বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


