যুক্তরাজ্যে (ব্রিটেন) আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য নতুন একটি আইনি পথ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই নতুন নিয়মের আওতায়, উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার শাসনব্যবস্থার মতো করেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক-কমিউনিটি সংস্থা এবং বিশ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি শরণার্থীদের ‘স্পনসর’ বা তাদের থাকা-খাওয়া ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারবে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকেই এই নতুন স্পনসরশিপ ব্যবস্থা চালু ও কার্যকর হবে। এর আওতায় বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থীদের স্পনসর করতে পারবে। এই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় শরণার্থীদের আগমন আগামী ২০২৭ সালের শরৎকালে হতে পারে। শুধু তাই নয়, আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কর্মসংস্থান বা বড় বড় নিয়োগকর্তা ও কোম্পানিগুলোর জন্যও শরণার্থীদের স্পনসর করার একটি আইনি পথ খুলে দেওয়া হবে।
এই নতুন ব্যবস্থাটি পূর্বের ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম’-এর চেয়ে অনেক বড় আকারে কাজ করবে। তবে মোট কতজন শরণার্থী এই সুবিধা পাবেন, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও জানিয়েছে যে, এর একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘ক্যাপ’ (নির্দিষ্ট সংখ্যা) থাকবে। এর আগে শুধুমাত্র সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য এমন স্পনসরশিপ চালু করা হয়েছিল।
এদিকে, গত দুই বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে আছেন। তাঁর সরকার আগামী সপ্তাহেই দেশের পার্লামেন্টে একটি নতুন ও কঠোর অভিবাসন বিল বা আইন তুলতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনের অধীনে যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন বাতিল হবে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো অনেক সহজ করা হবে। একই সাথে শরণার্থীরা যেন কেবল তাদের পরিবার বা খুব কাছের আত্মীয়দের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারেন, সেই সুযোগও সীমিত বা কমিয়ে দেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও শরণার্থী সংকট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। বর্তমানে সেখানে অভিবাসী-বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সাধারণ মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, “আমি প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন আইনি পথ উন্মুক্ত করছি, একই সঙ্গে অভিবাসন আইনের যেসব ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করা হতো সেগুলো বন্ধ করছি।” তবে এর আগে আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও সুদানসহ বেশ কিছু দেশের ওপর শিক্ষা ভিসা (স্টুডেন্ট ভিসা) নিষেধাজ্ঞা এবং শরণার্থীর মর্যাদাকে অস্থায়ী করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের জন্য নিজের দলের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। আগামী জুলাইয়ের শুরুতে কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এলে শাবানা মাহমুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনটিভি


