ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনযাত্রার খরচ ও আইনি নিয়মকানুন আরও কঠিন হচ্ছে। চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে দেশটিতে নতুন ভর্তি হতে কিংবা শিক্ষার্থী হিসেবে রেসিডেন্স পারমিট (বসবাসের অনুমতি) পেতে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে৷
গত ২২ জুন জারি হওয়া এক নতুন ডিক্রিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা ২০২৬ সালের বাজেট আইনের অংশ। এই নিয়মটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরে থেকে আসা (যেমন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের) শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট পেতে বা নবায়ন করতে দেশটির মাসিক মোট ন্যূনতম মজুরি বা ‘স্মিক’ (SMIC)-এর ৪৭ শতাংশের সমপরিমাণ আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হবে। বর্তমানে এই শর্ত ৬১৫ ইউরো থাকলেও ১ আগস্ট থেকে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরোতে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের জন্য এই আর্থিক শর্তের পরিমাণ বাড়ানো হলো।
ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, এই আর্থিক সীমা এখানেই স্থায়ী নয়। ভবিষ্যতে ফ্রান্সে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যাবে।
অ-ইউরোপীয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সের এমন কঠোর পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ফরাসি উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেকটি ডিক্রিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তি টিউশন ফি পরিশোধ করতে হবে। গত ২০ মে ফরাসি উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তের ‘চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়, গত ২৭ জুন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আরেকটি ডিক্রি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের এবং সরকারি বৃত্তি না পাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা দেশটির জনপ্রিয় আবাসন সহায়তা বা ‘এপিএল’ (APL) সুবিধাও আর পাবেন না।
ফরাসি সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার অর্থায়নে ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতাসম্পন্ন মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা যাবে। তবে এই নীতিগুলোর প্রতিবাদে গত মে মাসজুড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস


