পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ ‘আরএএসআই’ (RASI-2025) প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন চিত্রে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ২৩ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় পর্তুগাল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪৪ জন, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই সূচকীয় বৃদ্ধি পর্তুগিজ সরকারের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধের হারও আড়াইশ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২৩,১৩৪ জন বিদেশিকে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে এবং ২৯৮ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৫২ জনকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ আদালতের নির্দেশে এবং প্রশাসনিক সাজার আওতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সরকার অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের নতুন আইন সংসদে তুললেও, বর্তমান আইনি কাঠামোতেই দেশত্যাগের নির্দেশের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫ সালে পর্তুগালের বিভিন্ন সীমান্তে ২,১৪০ জনকে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে, যার প্রধান কারণ ছিল বৈধ নথিপত্র বা ভিসার অভাব। প্রবেশে বাধা পাওয়া নাগরিকদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল (৭৪৯ জন) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে অ্যাঙ্গোলা (৩৯৬ জন)। এছাড়া গত এক বছরে পুলিশ হোটেল, রেস্তোরাঁ, নির্মাণ খাত ও কৃষিক্ষেত্রে ৪,৬২৭টি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, যেখানে ১,০০৬ জন অভিবাসীকে অবৈধ পরিস্থিতিতে শনাক্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, অবৈধ অভিবাসনের উদ্দেশ্যে ‘সুবিধাবাদী বিবাহ’ বা ভুয়া বিয়ের হার এক বছরে ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র ১২টি এমন ঘটনা ধরা পড়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০টিতে। সামগ্রিকভাবে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ ২৫১.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ এবং প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের মতো ১২০৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, পর্তুগাল এখন আর নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য আগের মতো নমনীয় রাষ্ট্র নয়।


