জার্মানির অভ্যন্তরীণ সীমানায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তল্লাশি বজায় রাখার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট। আদালতের রায় এবং অভিবাসন গবেষকদের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এই কঠোর পদক্ষেপকে জার্মানির বর্তমান অভিবাসন নীতির একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডোব্রিন্ডট দাবি করেছেন যে, তাঁর গৃহীত নীতি জার্মানির অভিবাসন পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বা ‘মাইগ্রেশন টার্নঅ্যারাউন্ড’ আনতে সক্ষম হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যেখানে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার, সেখানে গত বছর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্ত তল্লাশির মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানোর তথ্য তুলে ধরে তিনি এই নীতির সাফল্য দাবি করেন। তবে অভিবাসন গবেষক ভিক্টোরিয়া রিটিগ এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আবেদনের সংখ্যা হ্রাসের পেছনে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বৈশ্বিক ও অন্যান্য কৌশলগত কারণ বেশি দায়ী থাকতে পারে।
অন্যদিকে, এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ এখন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কোবলেনজ প্রশাসনিক আদালত সম্প্রতি এক রায়ে গত বছর লুক্সেমবার্গ-জার্মান সীমান্তে পরিচালিত তল্লাশিগুলোকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরণের কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা পর্যাপ্তভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডোব্রিন্ডট জানিয়েছেন, ইউরোপীয় অভিবাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ একটি সাময়িক কিন্তু জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জারি থাকবে। তবে প্রধান বিরোধী দল এসপিডি দাবি করেছে যে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই বিদ্যমান আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে পরিচালনা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


