জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাজ্যে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় মজুরি ৫০ পেন্স বাড়িয়ে ১২.৭১ পাউন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির প্রায় ২৭ লক্ষ নিম্ন আয়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে এই মজুরি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; অনেকে কর্মী ছাঁটাই এমনকি ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও আশঙ্কা করছেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮-২০ বছর বয়সীদের জন্য মজুরি ৮৫ পেন্স বেড়ে ১০.৮৫ পাউন্ড এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তরুণ কর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘সঠিক দিকের পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে মৌলিক চাহিদা মেটাতে এই বাড়তি অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে অনেক তরুণ চাকরিপ্রার্থী আশঙ্কা করছেন, মজুরি বেড়ে যাওয়ায় নিয়োগকর্তারা এখন নতুন কর্মী নিয়োগে আরও বেশি রক্ষণশীল হয়ে উঠবেন।
ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল মজুরি বৃদ্ধিই নয়, বরং জাতীয় বীমা ও ব্যবসায়িক করের বাড়তি চাপ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সাউথাম্পটনের কফি চেইন ব্যবসায়ী স্পেন্সার বোম্যান জানিয়েছেন, খরচ এতটাই বেড়েছে যে টিকে থাকতে হলে তাঁকে হয়তো তাঁর একটি শাখা বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁর মতে, ব্যবসাগুলো এখন আর আর্থিকভাবে টেকসই পর্যায়ে নেই। অন্যদিকে, বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, স্বল্প আয়ের কর্মীদের বঞ্চিত করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। লেবার পার্টি দীর্ঘমেয়াদে সব বয়সের জন্য অভিন্ন ন্যূনতম মজুরি কার্যকরের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে শিল্প মালিকদের মধ্যে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।


