ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্যে এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভারী ধাতু ‘ক্যাডমিয়াম’। সম্প্রতি ফ্রান্সের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার এক গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত ভয়াবহ তথ্য অন্যান্য ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের তুলনায় ফরাসিরা প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি ক্যাডমিয়াম দূষণের শিকার হচ্ছে।
প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে থাকা এই ধাতু কেবল শিল্পকারখানার বর্জ্য নয়, বরং কৃষিতে ব্যবহৃত সারের মাধ্যমে সরাসরি মিশে যাচ্ছে ফরাসিদের প্রধান খাদ্যতালিকায়। বিশেষ করে রুটি, পাস্তা ও কুকিজের মতো গম-ভিত্তিক শস্যজাতীয় খাবারগুলোতে এই বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ক্যানসার সৃষ্টি, কোষের মিউটেশন এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে।
ফ্রান্স কেন অন্যদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে দেশটির সার আমদানির ত্রুটিপূর্ণ নীতি। ফ্রান্স তাদের ফসফেট সারের বড় অংশই আমদানি করে মরক্কো থেকে, যেখানে শিলা ও ফসফেটে প্রাকৃতিকভাবেই ক্যাডমিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অথচ ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো তাদের সারের উৎসে বৈচিত্র্য এনে এবং কঠোর আইনি সীমা আরোপ করে এই ঝুঁকি কমিয়ে ফেলেছে।
বর্তমানে ইইউ-র নির্ধারিত সীমা প্রতি কেজি সারে ৬০ মিলিগ্রাম হলেও ফ্রান্স অস্থায়ী ছাড়ের সুযোগ নিয়ে ৯০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাডমিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, যা স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত ২০ মিলিগ্রামের চেয়ে বহুগুণ বেশি। অর্থনৈতিক চাপের দোহাই দিয়ে এই নিয়ম সংশোধনে বিলম্ব হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের এখন সবজির খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া এবং জৈব পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


