২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় এক নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে যখন ওয়াশিংটনকে শান্ত রাখতে ‘তোষণনীতি’ বা আপোষের পথ বেছে নিয়েছেন, ঠিক উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আবির্ভূত হয়েছেন ইউরোপের ‘নৈতিক কণ্ঠস্বর’ হিসেবে।
মার্কিন শুল্ক বাধা, গাজা যুদ্ধ এবং অতি সম্প্রতি ইরান সংকটে আমেরিকার সরাসরি বিরোধিতা করে সানচেজ প্রমাণ করেছেন যে, হোয়াইট হাউসের সংবেদনশীলতা আর ইউরোপীয় নীতিনির্ধারণের মূল মাপকাঠি নয়। ট্রাম্পের বারবার হুমকি এবং স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার আল্টিমেটাম সত্ত্বেও মাদ্রিদ তার অবস্থানে অনড়, যা ইউরোপের অন্যান্য রাজধানীতেও এখন সাহসের সঞ্চার করছে।
নিবন্ধটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক বছরে ট্রাম্পকে শান্ত রাখার ‘Appeasement’ বা তোষণ নীতি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ইউক্রেনের সহায়তা স্থগিত করা থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো অবাস্তব প্রস্তাব কোনোটি থেকেই ট্রাম্পকে বিরত রাখা যায়নি।
তবে গ্রিনল্যান্ড সংকট এবং ইরান যুদ্ধ ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ন্যাটোর ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে শুরু করে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেওয়া পর্যন্ত সানচেজের প্রতিটি পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের আগেই ইউরোপ নিজের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর হতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের বলপ্রয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ পাল্টা-শুল্কের হুমকি এখন আটলান্টিক সম্পর্কের এক নতুন বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলছে, যেখানে আপোষের চেয়ে ‘প্রতিশোধ’ বা পাল্টা আঘাতই বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।


