২০২৬ সালের বিশ্ব সুখী শহর সূচকে পর্তুগালের শহরগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে উত্তরাঞ্চলের শহর মাইয়া (Maia)। ‘ইনস্টিটিউট ফর কোয়ালিটি অফ লাইফ’ কর্তৃক পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাইয়া বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৬৯তম স্থান দখল করেছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, জীবনযাত্রার মানের বিচারে মাইয়া এবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোর্তোকেও অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৩,৪০০টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় কেবল ২৫১টি শহর চূড়ান্ত স্থান পেয়েছে, যেখানে পর্তুগালের মাইয়া শহরটি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
শহরগুলোর সুখ এবং জীবনযাত্রার মান নির্ধারণে সুশাসন, পরিবেশ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, স্থায়িত্ব এবং নাগরিক সম্পৃক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে। মাইয়া শহরটি ৬,২৭৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষ ১০০-তে জায়গা পেলেও পর্তুগালের অন্যান্য বড় শহরগুলো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। সূচকে মাতোসিনহোস ১১১তম এবং ওডিভেলাস ১১৪তম অবস্থানে থাকলেও লিসবন ১৫৯তম এবং ব্রাগা ১৬৬তম স্থানে নেমে গেছে। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সুবিধার চমৎকার সমন্বয়ের কারণে মাইয়া শহরটি বর্তমানে কেবল পর্তুগিজদের কাছেই নয়, বরং অভিবাসীদের কাছেও বসবাসের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই তালিকায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলসিংকি, জেনেভা, টোকিও এবং মিউনিখ। এদিকে মাইয়া শহরটি একই বছর ‘ইউরোপীয় ভলান্টিয়ারিং ক্যাপিটাল’ হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছে, যা শহরটির সামাজিক সম্পৃক্ততার এক অনন্য স্বীকৃতি। পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আবাসন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মাইয়ার এই সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস


