থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন শহর পাতায়ায় একটি ট্রাভেল স্যুটকেসের ভেতর থেকে ১৭ বছর বয়সী এক স্থানীয় থাই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পরই থাইল্যান্ড ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে সাইমন পিটার কারম্যান নামের এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, অভিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক কারম্যান ওই থাই কিশোরীকে সাথে নিয়ে একটি কনডোমিনিয়ামে (আবাসিক ফ্ল্যাট) প্রবেশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ওই ফ্ল্যাট থেকে একটি বড় স্যুটকেস হাতে নিয়ে একাকী বেরিয়ে আসেন। আদালতে তোলার আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে কারম্যান ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্দেশ্যে এক অদ্ভুত ও দায়সারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার মেয়ের সাথে যা ঘটেছে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি আশা করি আপনারা ঠিক আছেন, যদিও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক থাকার কথা না। আসলে যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।”
তবে অভিযুক্ত খুনির এই সান্ত্বনা বা দুঃখ প্রকাশ কোনোভাবেই মুছতে পারছে না এক নিঃস্ব বাবার বুকফাটা আর্তনাদ। ছোটবেলাতেই মাকে হারানো একমাত্র মেয়েকে এভাবে হারিয়ে নিহতের ৪৬ বছর বয়সী বাবা থংচাই দোনহোমলা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। অশ্রুসিক্ত চোখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমি গভীরভাবে মর্মাহত, আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমার মেয়ের জন্মদাত্রী মা নেই, ও খুব ছোটবেলা থেকে একা একা বড় হয়েছে। তাই ওর যখনই কিছু দরকার হতো, ও নিজেই কষ্ট করে তার উপায় খুঁজে নিত এবং আমাকেও সবসময় নানাভাবে সাহায্য করত।”
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মেয়েটির সৎমা ওরাদি বুসারাকুম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আমি পুলিশকে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে আমি ওই খুনির মৃত্যুদণ্ড চাই। একজন সৎ মা হিসেবে, আমি আর কী বলব জানি না…। আমি শুধু চাই সে তার এই জঘন্য কৃতকর্মের সম্পূর্ণ কঠিন পরিণতি ভোগ করুক।”
থাইল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক সাইমন পিটার কারম্যানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, মরদেহ গুম করার চেষ্টা এবং নাবালিকা অপহরণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদেশী নাগরিকের হাতে নিজের দেশের এক কিশোরী খুনের এই ঘটনায় পুরো থাইল্যান্ড এখন থমথমে এবং সবাই খুনি কারম্যানের সর্বোচ্চ বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে।


