ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সহজ করতে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক সেবা চালু করেছে দেশটির অভিবাসন দপ্তর— ‘আইমা’। ১লা জুলাই ২০২৬ (বুধবার) থেকে আইমা-র নিজস্ব ‘রেনোভেশন পোর্টাল’ (Portal de Renovações)-এর মাধ্যমে সরাসরি এই ডিজিটাল আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
পর্তুগালের অভিবাসন আইনের ১৬ এবং ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যেসব ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা পর্তুগালে ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসের পর ‘স্থায়ী রেসিডেন্স সার্টিফিকেট ও কার্ড’ পাওয়ার যোগ্য বা শর্ত পূরণ করেছেন, তারা এখন থেকে সরাসরি এই পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীরা কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসেই নিচের ৩টি মূল কাজ সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন:
১. অনলাইন আবেদন: স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি ইস্যুর আবেদন (Pedido de emissão) করা যাবে।
২. ফি বা ট্যাক্স পরিশোধ: আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ফি বা কর অনলাইনেই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে।
৩. নথিপত্র আপলোড: প্রয়োজনীয় সমস্ত সাপোর্টিং ডকুমেন্ট বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটালি স্ক্যান করে আপলোড বা সাবমিট করা যাবে।
অনলাইনে আবেদন ও কাগজপত্র সাবমিট করার পর যদি কোনো আবেদনকারীর নতুন করে আঙুলের ছাপ বা ছবি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে ‘আইমা’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল করবে। পরবর্তীতে ওই আবেদনকারীকে ইমেইল বা বার্তার মাধ্যমে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার তারিখ, সময় এবং নির্দিষ্ট লোকেশন বা কার্যালয় জানিয়ে দেওয়া হবে।
যে সমস্ত আবেদনকারী গত ৩০ জুন পর্যন্ত আইমা-র পুরাতন ফরম্যাট বা ‘কন্টাক্ট ফর্ম’-এর মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়েছেন অথবা যাদের ইতিমধ্যেই সশরীরে উপস্থিতির ডেট বা শিডিউল নেওয়া আছে, তাদের আগের নিয়ম ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বহাল থাকবে। তাদের নতুন করে অনলাইনে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
‘আইমা’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সামগ্রিক অভিবাসন সেবা আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই নতুন ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসন সংক্রান্ত জটিল প্রশাসনিক ও কাগজের কাজগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা, ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা ও প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটিকে পুরোপুরি সহজলভ্য করে তোলা।
তথ্যসূত্র: আইমা


