পর্তুগালের পোর্তো শহরের কেন্দ্রে এক রাতে ছয় পর্যটক ও এক পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শহরে আরও পুলিশ মোতায়েনের জন্য সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পোর্তোর মেয়র পেদ্রো দুয়ার্তে।
মঙ্গলবার মেয়র বলেন, গত শুক্রবার রাতের ঘটনাগুলো ‘অগ্রহণযোগ্য’। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ মিলে একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করছে, যা আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা।
দুয়ার্তে বলেন, প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাবেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ও বিশেষায়িত টহল গাড়ি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
গত মে মাসে পর্তুগাল সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ পোর্তোয় অতিরিক্ত ৮০ জন পৌর পুলিশ ও ২০০ জন জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি) সদস্য মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
মেয়র বলেন, “নিরাপত্তাহীনতা এখন পোর্তোর প্রধান সমস্যা।” তার মতে, বাসিন্দাদের শান্তিতে বসবাস এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্নে শহর ঘুরে দেখার অধিকার রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্রেরও সমালোচনা করেন তিনি।
পোর্তো পৌরসভা বর্তমানে পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি স্কুলের সঙ্গে কাজ করছে। শহরে সহিংসতা কমাতে তথ্যভিত্তিক কৌশল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়রের দাবি, এসব সহিংসতার সঙ্গে রাস্তায় মাদক বিক্রির মতো কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে পোর্তোর ব্যস্ত নাইটলাইফ এলাকা রুয়া কান্দিদো দোস রেইসে অন্তত ছয় পর্যটক হামলার শিকার হন। তারা সামান্য আহত হন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর, ভোর ৪টার দিকে একই সড়কে ভাঙা কাচের বোতল দিয়ে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত ওই পুলিশ সদস্যকে সান্তো আন্তোনিও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে বিরোধের জেরেও আরেক ব্যক্তি আহত হন।
পর্যটক ও পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব ঘটনার পর পোর্তোর নাইটলাইফ এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের পেশাজীবী সংগঠন এএসপিপি বলেছে, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন হলেও সমস্যাটি কাঠামোগত। সংগঠনটি আরও পুলিশ নিয়োগ এবং পিএসপি সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও ক্যারিয়ার সুবিধা উন্নত করার দাবি জানিয়েছে।


