পর্তুগিজ সিটিজেন কার্ড (কার্তাঁও দে সিদাদাঁও) অনলাইনে নবায়ন (রিনিউ) করার পর পরিবারের কোনো সদস্য বা অন্য কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে তা সংগ্রহের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি পোর্টাল ‘gov.pt’-এর তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীর লিখিত অনুমতিপত্র থাকলেও এই ক্ষেত্রে অন্য কেউ কার্ড তুলতে পারবেন না। অনলাইনে নবায়ন করা সিটিজেন কার্ড সংশ্লিষ্ট সার্ভিস কাউন্টার থেকে কেবল কার্ডের প্রকৃত মালিককেই স্বশরীরে গিয়ে গ্রহণ করতে হবে।
২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির ৭/২০০৭ নম্বর আইনের ৩১(৫) ধারা অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করা কার্ড সরাসরি মূল আবেদনকারীর কাছেই হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে সশরীরে বা অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতিতে আবেদন করা কার্ডের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা শিথিল। যেসব ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহের অনুমতি রয়েছে, সেখানে আবেদন করার সময় বা পরবর্তীতে কার্ডধারী অন্য কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করতে পারেন।
দেশটির নিবন্ধন ও নোটারি ইনস্টিটিউট (আইআরএন)-এর মতে, এর জন্য একটি পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে মনোনীত প্রতিনিধিকে নিজের বৈধ পরিচয়পত্র এবং কার্ডের পিন (PIN) চিঠি সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা শারীরিক বা মানসিকভাবে পরনির্ভরশীল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তাদের আইনি অভিভাবক কার্ড গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু অনলাইনে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করা কার্ডের ক্ষেত্রে এই ছাড় কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।
অনলাইনে যারা সিটিজেন কার্ড নবায়ন করেন, তারা ডাকযোগে বাড়িতে বা নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে কার্ড সংগ্রহের সুযোগ বেছে নিতে পারেন। তবে ডাকযোগে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের অন্য কেউ আবেদনকারীর পক্ষে কার্ডটি গ্রহণ করতে পারেন না। আইআরএন জানিয়েছে, পর্তুগিজ ডাক বিভাগ (সিটিটি)-এর মাধ্যমে কার্ড সরাসরি কার্ডধারীর হাতেই হস্তান্তর করা হয়—তা বাড়িতেই হোক বা ডাকঘরেই হোক।
আর সার্ভিস কাউন্টার থেকে সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি ওয়েবসাইট ‘Justiça.gov.pt’ জানিয়েছে, অনলাইনে নবায়ন করা কার্ড ‘কেবলমাত্র মূল কার্ডধারীই সংগ্রহ করতে পারবেন।’ অর্থাৎ জীবনসঙ্গী, আত্মীয় বা বন্ধুর কাছে লিখিত অনুমতিপত্র থাকলেও অনলাইনে নবায়ন করা কার্ড তাঁদের হাতে দেওয়া হবে না।
কাউন্টারে গিয়ে সিটিজেন কার্ড নেওয়ার সময় আবেদনকারীর ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো পিন চিঠিটি অবশ্যই সঙ্গে নিতে হবে। এই চিঠিতে কার্ডের ইলেকট্রনিক ফাংশন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় গোপন কোড থাকে। আইআরএন কার্ডের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এই চিঠিটি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ এতে ইলেকট্রনিক প্রমাণীকরণ ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যবহারের তথ্য থাকে।
প্রচলিত পদ্ধতির আবেদনে কোনো প্রতিনিধি কার্ড সংগ্রহের অনুমতি পেলেও, তাঁদের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইআরএন জানিয়েছে, অন্য কারও হয়ে কার্ড সংগ্রহকারী ব্যক্তি মূল কার্ডধারীর ‘শাভে মোভেল ডিজিটাল’ বা ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সক্রিয় করতে পারবেন না। এই সেবার জন্য কার্ডধারীর নিজস্ব উপস্থিতি বা দূরবর্তী বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের প্রয়োজন হয়।
কাউন্টার থেকে কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে আবেদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় পাওয়া যায়। এই এক বছরের মধ্যে কার্ড সংগ্রহ না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় এবং কার্ড পেতে নতুন করে আবেদন করতে হয়।
তবে যারা অনলাইনে কার্ড নবায়ন করেছেন কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে কাউন্টারে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য একটি বিকল্প সুবিধা রয়েছে। সিটিজেন কার্ডের ‘এক্সটার্নাল সার্ভিস’-এর আওতায় রেজিস্ট্রির একজন কর্মকর্তা কার্ডধারীর অবস্থানস্থলে (যেমন বাসা বা হাসপাতাল) গিয়ে কার্ড হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি অথবা গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা নাগরিকেরা এই সেবা পাওয়ার যোগ্য। তাই যারা কাউন্টারে যেতে অক্ষম, তাদের কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে না পাঠিয়ে সরাসরি আইআরএনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বিশেষ সেবার সুবিধা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


