যুক্তরাজ্যের চেস্টার চিড়িয়াখানায় ১৫ ফুট লম্বা একটি অজগরের ক্যানসার চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রোকেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো সাপের শরীরে এ ধরনের চিকিৎসা প্রয়োগের ঘটনা এটিই প্রথম।
প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার লম্বা ও ৫০ কেজি ওজনের রেটিকুলেটেড পাইথনটির নাম জোডি ফস্টার। কিপাররা লক্ষ্য করেন, জোডি আগের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছে এবং বেশি সময় নিষ্ক্রিয় থাকছে। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে ম্যালিগন্যান্ট ফাইব্রোসারকোমা নামে একটি ক্যানসার শনাক্ত হয়।
প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর ক্যানসার আবার ফিরে আসে এবং জোডির চোয়ালের হাড়ের একটি অংশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
এরপর জোডির চিকিৎসায় চেস্টার চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসকেরা লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেন। তারা অজগরটির জন্য বিশেষভাবে ইলেকট্রোকেমোথেরাপি পদ্ধতিটি উপযোগী করে তোলেন।
এই চিকিৎসায় ব্লিওমাইসিন নামের ক্যানসারের ওষুধের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ক্যানসার কোষের আবরণকে সাময়িকভাবে বেশি ভেদ্য করে, ফলে ওষুধটি কোষের ভেতরে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারে।
চেস্টার চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোল বলেন, টিউমারটি ফিরে আসায় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, একসময় এটি জোডির খাবার খাওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, এর আগে কোনো সাপের শরীরে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়নি।’
প্রায় ৯০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে টিউমার এবং আক্রান্ত চোয়ালের হাড়ের একটি অংশ অপসারণ করেন। এরপর জোডিকে ইলেকট্রোকেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অজগরটির বিশাল আকারের কারণে অস্ত্রোপচারের সময় পাশাপাশি দুটি টেবিল জোড়া লাগাতে হয়েছিল।
চোয়ালের একটি অংশ অপসারণ করা হলেও জোডির খাবার খাওয়া বা শিকার করার ক্ষমতায় কোনো সমস্যা হয়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ পরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।


