ইতালির সিসিলি দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনায় বজ্রপাতে ২৯ বছর বয়সী এক মার্কিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার তীব্র বজ্রঝড়ের সময় হাইকিং করার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন তিনি।
স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। ওই পর্যটক এটনার ভ্যালে দেল বোভে এলাকার প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় দুর্গম রোক্কা কাপরা এলাকায় ছিলেন।
খবর পেয়ে ইতালীয় দমকল বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে যায়। উদ্ধারকারীরা সেখানে তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাঁকে কাতানিয়ার কান্নিজারো হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তিনি হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকেরা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি একাই ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি তিনি আগ্নেয়গিরিটির সাম্প্রতিক সক্রিয়তার কারণে জনসাধারণের জন্য বন্ধ বা বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত কোনো এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মাউন্ট এটনা বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিকস অ্যান্ড ভলকানোলজির এটনা অবজারভেটরি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির রিটম্যান শৃঙ্গের কিছু অংশ ধসে পড়ার পর ভ্যালে দেল বোভে এলাকায় নতুন একটি লাভা ভেন্ট বা নির্গমনমুখ খুলেছে।
প্রায় ২ হাজার ৩৫০ মিটার উচ্চতায় থাকা ওই ভেন্ট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ লাভার প্রবাহ তৈরি হয়েছিল, যা এখন থেমে ঠান্ডা হয়ে গেছে। প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিটার উচ্চতার আরেকটি ভেন্ট এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সেখান থেকে লাভা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত নেমে আসছে।
এটনার শীর্ষের ভোরাজিনে ক্রেটারেও বিস্ফোরণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও ধোঁয়ার স্তম্ভ প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠেছে।
আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে সিসিলির কাতানিয়া-ফন্তানারোসা বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০টি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে। তবে উড্ডয়নে বর্তমানে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
এটনায় মার্কিন পর্যটকের মৃত্যুর পাশাপাশি ইতালির দক্ষিণ তিরোলের পিজ স্টারলেক্স পর্বতেও বজ্রপাতে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। পর্বতারোহীদের জন্য বজ্রঝড়কে অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে সতর্ক করেছেন পর্বত উদ্ধারকর্মীরা। বিশেষ করে পাহাড়ের চূড়া, রিজ ও পাথুরে এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় বজ্রপাতের আভাস পাওয়া গেলে দ্রুত নিচু জায়গায় নেমে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।


