পর্তুগালে ব্যবসা পরিচালনার নামে ‘ভুয়া শোরুম’ বা ফ্রন্ট শপ-এর আড়ালে অবৈধ আবাসন, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচারের মতো অপরাধ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার।
পর্তুগালের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সংহতি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ‘সবচেয়ে কার্যকর সমাধান’ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘অবজারভেডোর’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই সন্দেহভাজন ব্যবসাগুলোর মধ্যে সাধারণ রেস্তোরাঁ ও মুদি দোকান থেকে শুরু করে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন স্যুভেনির সামগ্রী বিক্রির দোকানও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ কেবল নামমাত্র শোরুম বা ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে মূল ব্যবসার আড়ালে রাতে গোপনে অবৈধভাবে লোকজনকে রাখা বা আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়।
কেবল রাজধানী লিসবনেই এমন ৩৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সনাক্ত করেছে স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল পুলিশ, যেখানে রাতের বেলা মানুষের অবৈধ বসবাসের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
এই উদ্বেগের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ব্যবসা খোলা এবং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় পৌরসভা বা সিটি কাউন্সিলগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। লিসবন ও পোর্তো শহরের মেয়রদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি তুলেছেন—কোন এলাকায় কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা স্থানীয় কাউন্সিলকে দিতে হবে। এই দাবির পক্ষে ইতিমধ্যে একটি গণ-আবেদন এবং সংসদে পিএসডি, সিডিএস-পিপি, শেগা ও লিবারেল ইনিশিয়েটিভ দলের সমর্থনে একটি বিশেষ সুপারিশও পাস হয়েছে।
তবে এই নতুন কঠোর ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আরেকটি উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সরকার পর্তুগালে নতুন ব্যবসা খোলার প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে।
গত জুলাইয়ে দেশের অর্থনীতি মন্ত্রী ম্যানুয়েল কাস্ত্রো আলমেইদা ঘোষণা করেছিলেন, তারা ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নতুন একটি নিয়ম বা কোড এই শরতেই জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
প্রস্তাবিত এই সংস্কারের আওতায়, ব্যবসা শুরুর আগে পরিদর্শনের নিয়মটি প্রায় বাতিল করা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কেবল তাদের ব্যবসা শুরুর ইচ্ছার কথা কর্তৃপক্ষকে জানাবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিদর্শন করা হবে।
মন্ত্রী কাস্ত্রো আলমেইদা বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো জটিল আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, অনিশ্চয়তা ও সময় কমানো এবং সরকারি তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল করা।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করার এই উদার ব্যবস্থার পাশাপাশি কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু সন্দেহভাজন ব্যবসার অপব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—তা নিয়েই এখন গভীরভাবে ভাবছে পর্তুগাল সরকার। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তোর মতো প্রধান শহরগুলোতে বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অপব্যবহার এবং সেখানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ রাখার বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলগুলো অবিলম্বে হস্তাক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
তবে সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বা এটি কবে নাগাদ কার্যকর হতে পারে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


