পর্তুগালে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক প্রাক্কালে বিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে থাকায় তীব্র শিক্ষক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আলেকজান্দ্রে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে—পর্তুগালকে আগামী আরও বেশ কয়েক বছর এই শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং ‘এটি আমাদের মেনে নিতে হবে’।
আজ মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী বলেন, সমস্যাটি এখন কাঠামোগত রূপ নিয়েছে, কারণ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪,০০০ শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও কয়েক বছর এই শিক্ষক সংকটের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।’ এই সংকট সামাল দিতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা (ওভারটাইম) এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিশ্চিত করতে অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার মেলবন্ধন ঘটাতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পর্তুগালের শিক্ষক ইউনিয়নের ফেডারেশন ‘ফেনপ্রফ’ জানিয়েছে—ক্লাস শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে এখনও প্রায় ২,৬৫০টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা মূলত ৫০,০০০ ঘণ্টারও বেশি পাঠদানের সমান।
তবে শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে—পদ শূন্য থাকা মানেই এই নয় যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ছাড়াই থাকবে। তিনি বলেন, ‘এই শূন্যতা পূরণ করার জন্য আমাদের কাছে বিশেষ বিকল্প আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।’ যার অন্যতম একটি হলো শিক্ষকদের ওভারটাইম বা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করানো।
মন্ত্রী আলেকজান্দ্রে জানান, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই শিক্ষকদের ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক বাবদ সরকার প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ইউরো প্রদান করেছে। মূলত অবসরগ্রহণ, শিক্ষকদের অসুস্থতা অথবা বিকল্প শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে ফাঁকা থাকা ক্লাসগুলো নেওয়ার জন্যই এই বিশাল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতি বছর এবং পুরো শিক্ষাবর্ষ জুড়ে সবসময়ই কিছু শিক্ষক সংকট থাকবে, কারণ হাজার হাজার শিক্ষক অবসরে যান এবং দুর্ভাগ্যবশত হাজার হাজার শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
শিক্ষক ফেডারেশন ফেনপ্রফ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পর্তুগালের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে, যেখানে ৩৭৮টি পূর্ণকালীন শিক্ষকের পদ এখনও সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আলেকজান্দ্রেও স্বীকার করেছেন যে, প্রাথমিকের এই সংকটটি সমাধান করা ‘তুলনামূলকভাবে বেশি কঠিন’।
যেসব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে বিকল্প সমাধান হিসেবে ক্লাসের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা অথবা আইন অনুযায়ী একটি ক্লাসে সর্বোচ্চ যতজন শিক্ষার্থী রাখা সম্ভব, সেই ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ক্লাসের আকার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সংকট মেটাতে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল বা পৌরসভারও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে বাধ্যতামূলক স্কুলের বয়সের প্রতিটি শিশু যেন শিক্ষার আওতায় থাকে। আর সেটি নিশ্চিত করা হবে।’
সরকার জানিয়েছে—দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মেটাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পর্তুগালের ওইরাস অঞ্চলের কার্নাক্সাইডে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্তুগালের ‘ডিজিটাল মোবাইল কি’ চালুর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এই নতুন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ওপর থেকে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং বিশেষ করে স্কুলের কর্মীদের জন্য অপরাধের রেকর্ড সংক্রান্ত সার্টিফিকেটের (ক্রিমিনাল রেকর্ড) বারবার কাগজের কপি যাচাই করার ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রী গনসালো মাতিয়াস বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবা দপ্তরগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আরও সহজ ও গতিশীল করা, যাতে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের একই নথিপত্র বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিতে না হয়।


