ফ্রান্সের তুঁলুজের কাছে ল্য ফোগা (Le Fauga) শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে শিরশ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন এক ছাত্রের বাবা। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্কুল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচারের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।
সংবাদমাধ্যম ‘লা দেপেশ দু মিদি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রের বাবা স্কুলের পার্কিং লটে শিক্ষিকাকে একা পেয়ে হত্যার হুমকি দেন। শিক্ষিকার অপরাধ ছিল—শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ওই দশ বছর বয়সী ছাত্রকে শাস্তি হিসেবে সেদিনের জন্য অন্য একটি ক্লাসরুমে বসতে পাঠিয়েছিলেন। স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় ছেলেটি তার বাবাকে চিৎকার করে বলেছিল, ‘ওই টিচারই আমাকে শাস্তি দিয়েছে!’ এরপরই রাগান্বিত বাবা শিক্ষিকার গাড়ির কাছে গিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘আমি তোমার মাথা কেটে ফেলব!’
ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রাই এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষিকা ও তাঁর সহকর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিকার ওপর আক্রমণ মানে পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ। কোনো শিক্ষকই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভয়ের শিকার হতে পারেন না।’
শিক্ষিকা ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সরকার তাঁকে সরকারি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মন্ত্রীর নির্দেশে ওই শিক্ষার্থীকে অন্য স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। গত গ্রীষ্মে ফ্রান্স সরকার ‘শিক্ষক ও কর্মীদের অভিভাবকদের হুমকি ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে’ একটি ডিক্রি জারি করেছিল, যার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা সোমবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন। স্থানীয় মেয়র ইজাবেল বাগনেরিস জানান, ঘটনার পর থেকে শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত ও বাকরুদ্ধ, কারণ এমন ঘটনা তাদের এলাকায় ঘটবে—তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।


