আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। এতে দেশটিতে ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে বসবাসকারী অনেক অভিবাসীকে নাগরিকত্বের জন্য আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নিয়মে ভাষাজ্ঞান, আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে পরীক্ষা এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতার শর্ত যুক্ত হতে পারে।
তবে পাঁচ বছর থেকে আট বছর করার প্রস্তাবটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যারা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদনের যোগ্য হওয়ার কাছাকাছি রয়েছেন।
ও’ক্যালাহান গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট কাট-অফ সময় থাকবে। অর্থাৎ নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি চার বছর ১০ মাস ধরে আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করলেও নতুন নিয়মের আওতায় পড়বেন।
আরও তিন বছর অপেক্ষার শঙ্কা
নতুন নিয়মে সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ৪০ বছর বয়সী ব্রাজিলীয় নাগরিক ইভান। ২০২২ সালের জুলাইয়ে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ডাবলিনে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ক্রিটিক্যাল স্কিলস ভিসায় আয়ারল্যান্ডে যান তিনি। বর্তমানে তার কাছে দেশটির স্ট্যাম্প ৪ অভিবাসন অনুমতি রয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুলাইয়ে আইরিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারতেন ইভান। তবে আট বছরের নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সেই সময় পিছিয়ে ২০৩০ সালে চলে যাবে।
আইরিশ এক্সামিনারকে ইভান বলেন, সরকারের নিয়ম কঠোর করার কারণ তিনি বুঝতে পারেন। ভাষাজ্ঞান, নাগরিকত্ববিষয়ক জ্ঞান, ভালো আচরণ বা সমাজে একীভূত হওয়ার মতো শর্ত নিয়েও তার আপত্তি নেই।
তবে বর্তমান পাঁচ বছরের নিয়ম অনুযায়ী যারা ইতোমধ্যে বেশির ভাগ সময় পার করে ফেলেছেন, তাদের জন্য একটি পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থা চান তিনি।
ইভানের আশঙ্কা, তার মতো আরও অনেক দীর্ঘদিনের বাসিন্দা একই সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের বহু বছর আগেই মানুষ চাকরি, পরিবার ও কোনো দেশে স্থায়ীভাবে থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
ইভান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ তিনি আয়ারল্যান্ডেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আইরিশ এক্সামিনারকে তিনি বলেন, নতুন নিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য এই অতিরিক্ত তিন বছর তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার ভাষায়, এটি আরও তিন বছরের অনিশ্চয়তা।
পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থা ঘোষণা হয়নি
বর্তমানে পাঁচ বছরের বিদ্যমান শর্ত পূরণের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের জন্য সরকার কোনো ছাড় বা পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি।
ফলে নতুন আইন ঠিক কোন তারিখে কার্যকর হচ্ছে, সেটি কিছু আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আইরিশ এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ আইনটি কার্যকর হলে এতে হাজারো মানুষ প্রভাবিত হতে পারেন।
ইভানের দাবি, বিদ্যমান বাসিন্দাদের নতুন ভাষা বা সমাজে একীভূত হওয়ার কঠোর শর্ত থেকে ছাড় দেওয়া হোক—এমনটি তিনি বলছেন না। তার বক্তব্য হলো, তারা যখন আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন, তখন নাগরিকত্বের জন্য পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত ছিল। তাই ইতোমধ্যে সেই সময়ের বড় একটি অংশ পার করা ব্যক্তিদের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
ইভানের ঘটনা নাগরিকত্বের নিয়মে সংখ্যাগত পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবটিও তুলে ধরছে। ইতোমধ্যে চার বছর ধরে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা কারও জন্য পাঁচ বছরের শর্ত আট বছরে বাড়ানো মানে কেবল সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং আরও তিন বছর অপেক্ষা করা।


