তীব্র আবাসন সংকটের মুখে নেদারল্যান্ডসে বহু আশ্রয়প্রার্থী থাকার জায়গা না পেয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সামনে শীত ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ডাচ সংবাদমাধ্যম এনএলটাইমস (NLTimes) এ খবর জানিয়েছে।
দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় অভ্যর্থনা সংস্থা ‘সিওএ’ (COA) সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে তের আপেল (Ter Apel)-এর প্রধান রিসেপশন সেন্টারের জায়গা পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে। কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে ধারণক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে। বিকল্প কোনো জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে নতুন আসা অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে রাস্তায় রাত কাটাতে হতে পারে।
সিওএ জোর দিয়ে বলেছে, এই সংকটের কারণ কোনো বাড়তি অভিবাসী আগমন নয়; বরং অভিবাসন আইনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং আদালতে আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নতুন আবেদন কমলেও তের আপেল কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের অতিরিক্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশটিতে অনুমোদিত আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্যও তীব্র আবাসন সংকট চলছে। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ বৈধ আশ্রয় পাওয়ার পরও বিভিন্ন পৌরসভায় স্থায়ী বাসস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএল নিউউসের (RTL Nieuws) মতে, দেশজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলার কাজ থমকে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নারী, শিশু এবং অসুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদেরও তের আপেলে থাকার জায়গা মেলা ভার হয়ে উঠেছে। ফলে এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর সদস্যরা রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা বাড়ছে। সংকট সামাল দিতে রেড ক্রস জরুরি ভিত্তিতে যে রাত্রিকালীন থাকার ব্যবস্থা করেছিল, তাও এখন পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে গেছে। সিওএ প্রধান রেমকো বাকার স্থানীয় পৌরসভাগুলোকে জরুরি সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা ‘অমানবিক’।
অন্যদিকে, আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ির অংশ হিসেবে নতুন একটি বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছেন দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী বার্ট ভ্যান ডেন ব্রিঙ্ক। প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, যেসব ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের থাকার অধিকার নেই এবং যারা বহিষ্কারে বাধা দিচ্ছেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে।’
সংকট ও কড়াকড়ির এমন পরিস্থিতির মাঝেই নেদারল্যান্ডসের কট্টর ডানপন্থি দলগুলো এসব নীতি প্রত্যাখ্যান করে গণ-বহিষ্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।


