স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের এল হিয়েরো উপকূলের উত্তাল সমুদ্র থেকে সাতটি কাঠের খোলা মাছ ধরার নৌকায় (কাইয়ুকো) থাকা অন্তত ৮৫৪ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা (সালভামেন্তো মারিতিমো)। শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া নৌকাগুলোকে পাহারা দিয়ে এল পিনার পৌরসভার লা রেসটিঙ্গা বন্দরে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তীরে নিয়ে আসা অভিবাসীদের মধ্য থেকে ৩৫০ জনকে শুক্রবার সকালে নিয়মিত ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে তেনেরিফে দ্বীপে স্থানান্তর করা হয়েছে। এল হিয়েরোর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমাতে আরও ৩৫০ জন অভিবাসীকে শুক্রবার বিকেলের ফেরিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে স্পেন কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। এর বাইরে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন নৌকায় চড়ে এল হিয়েরোতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত নয়জন নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দে লস রেয়েস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবারের এই বৃহৎ উদ্ধার অভিযানে স্প্যানিশ উদ্ধারকারী সংস্থার তিনটি বিশেষ জাহাজ—সালভামার নাভিয়া, দিফদা এবং মিজার অংশ নেয়। প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় লা রেসটিঙ্গা বন্দর থেকে চার মাইল দূরে, যেখানে প্রথম নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। রাত প্রায় একটার দিকে ১৩৪ জন যাত্রীসহ নৌকাটিকে বন্দরের জেটিতে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ নাভিয়া।
এরপর সকালজুড়ে একের পর এক নৌকা উপকূলে পৌঁছাতে থাকে। ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় নৌকাটি ১৭৪ জন অভিবাসী নিয়ে জেটিতে ভেড়ে এবং এর মাত্র ১৫ মিনিট পরেই ১৬৬ জন আরোহীসহ পৌঁছায় তৃতীয় নৌকাটি।
দিনের সবচেয়ে বড় নৌকাটি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বন্দরে পৌঁছায়, যেটিতে একসঙ্গে ২৩৫ জন মানুষ গাদাগাদি করে ছিলেন। এরপর সকাল ৯টার দিকে পঞ্চম নৌকা থেকে ৫৪ জন এবং সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ষষ্ঠ নৌকাটি থেকে আরও ৩৯ জন অভিবাসী তীরে নামেন। সবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় ৫২ জন আরোহী নিয়ে সপ্তম নৌকাটি লা রেসটিঙ্গায় এসে পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, সাতটি নৌকায় থাকা অভিবাসীদের সবাই সাব-সাহারান আফ্রিকার বংশোদ্ভূত। তাঁদের বেশিরভাগই পুরুষ হলেও আরোহীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। তবে তারা আফ্রিকার ঠিক কোন দেশ থেকে কিংবা কোন পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লা রেসটিঙ্গা বন্দরে অভিবাসীদের সহযোগিতায় রেড ক্রসের জরুরি দল (ইআরআইই), ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের জরুরি পরিষেবা (এসইউসি), বন্দর নিরাপত্তা কর্মী, সিভিল গার্ড এবং ন্যাশনাল পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার পর অভিবাসীদের ভালভার্দে পৌরসভার সান আন্দ্রেসে অবস্থিত বিদেশিদের অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে (সিএটিই) স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তারা পুলিশি তত্ত্বাবধানে থাকবেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের এল হিয়েরোর বাইরের অন্যান্য স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গ্রান ক্যানারিয়া ও ল্যাঞ্জারোতে অভিবাসীদের নতুন আগমন
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের বিপজ্জনক এই নৌপথে অভিবাসীদের আগমন কেবল একটি দ্বীপে সীমাবদ্ধ নেই। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা একটি অনির্ধারিত সংখ্যক অভিবাসীকে গ্রান ক্যানারিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় আরগিনেগিন বন্দরে তীরে নিয়ে আসে স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল।
অন্যদিকে ল্যাঞ্জারোত দ্বীপে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে আরও দুটি দলের আগমন ঘটে। এর মধ্যে প্রথম দলটিতে একটি ছোট নৌকায় উত্তর আফ্রিকার ২৭ জন পুরুষ ছিলেন এবং দ্বিতীয় দলটিতে আরও ৬১ জন অভিবাসী ছিলেন।


