ইউরোপজুড়ে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে মহাদেশটির প্রায় ২০টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জনের বেশি মানুষ।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ২০টি দেশের ২৩৪টি অঞ্চলে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে।আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিস। দেশটিতে ৪৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮০।
নেদারল্যান্ডসেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটিতে চলতি বছর ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আরআইভিএম)।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ছড়ায়। কিউলেক্স প্রজাতির মশা এ ভাইরাসের প্রধান বাহক। মানুষের জন্য এখনো এ ভাইরাসের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। এ কারণে মশার কামড় এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরেই কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিতে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায়। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।


