পর্তুগাল এখন অপরাধী চক্রগুলোর জন্য ইউরোপে ঢোকার একটি বড় রাস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে লোকজনকে পর্তুগাল হয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের এক সরকারি রিপোর্টে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক বছরে পর্তুগাল সীমান্তে ৬২৭টি জাল কাগজপত্র ধরা পড়েছে। আগের বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও কম ছিল, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে দিন দিন জালিয়াতি বাড়ছে। বিশেষ করে আলবেনিয়া, জর্জিয়া এবং ইরান এই দেশগুলোর নাম করে জাল পাসপোর্ট বা ভিসা বেশি তৈরি করা হচ্ছে।
পর্তুগালের পুলিশ এখন বিমানবন্দরে অনেক বেশি কড়াকড়ি শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন অনেক আধুনিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে, যার ফলে খুব নিখুঁতভাবে বানানো জাল পাসপোর্টও তারা সহজে ধরে ফেলছে। অপরাধীরা সাধারণত অভাবী মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে মোটা অংকের টাকা নেয় এবং পরে তাদের হাতে জাল কাগজপত্র ধরিয়ে দেয়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাচারকারীরা পর্তুগালকে গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং মাঝপথ বা ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করে। তাদের আসল উদ্দেশ্য থাকে পর্তুগালে নামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে মানুষকে ছড়িয়ে দেওয়া। তারা সবসময় পুলিশের নজর এড়িয়ে নতুন নতুন রাস্তা খোঁজে।
আইন অনুযায়ী, সীমান্তে যদি কারো কাছে জাল কাগজপত্র পাওয়া যায়, তবে তাকে সাথে সাথে ওই দেশে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অপরাধের ধরণ বুঝে ওই ব্যক্তিকে ২ থেকে ৫ বছরের জন্য পুরো ইউরোপে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। তাই ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টায় জীবনের বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


