ফ্রান্সে আয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত সঙ্গীত উৎসব ‘ফেত দে লা মিউজিক’ চরম সহিংসতা ও নৈরাজ্যে রূপ নিয়েছে। উৎসব চলাকালীন বিভিন্ন জায়গায় মারামারি, ছুরিকাঘাত, যৌন নিপীড়ন এবং চুরির ঘটনার পর দেশজুড়ে ২৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিকসহ লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেশব্যাপী আয়োজিত এই স্ট্রিট পার্টিতে সোমবার ভোররাতে বহু মানুষ হামলার শিকার হন।
নৈরাজ্যের এই রাতে পুলিশ অন্তত দুটি কথিত ধর্ষণ, একাধিক যৌন নিপীড়ন, ছিনতাই এবং সিরিঞ্জ দিয়ে মেয়েদের শরীরে অজ্ঞাত সুঁই ফোটানোর মতো রোমহর্ষক ঘটনার কথা জানিয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর তুলুজে মধ্যরাতের দিকে এক পুরুষকে ছুরিকাঘাত করা হয়, আর এর পরপরই কাছের কলমিয়ার্স এলাকায় এক নারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বর্তমানে তারা দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায়ও ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা শহরের কেন্দ্রস্থলে মারামারি শুরু করে, গাড়ির জানালা ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন দোকানে চুরির চেষ্টা চালায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেবল প্যারিসেই প্রায় ১৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অজ্ঞাত কোনো তরল পদার্থ শরীরে পুশ করে নারীদের ওপর সিরিঞ্জ হামলার অন্তত ১০টিরও বেশি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। এক তরুণী সিরিঞ্জ হামলার শিকার হওয়ার পর একটি বেসরকারি বাসভবনে ধর্ষণের শিকার হন। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় উপশহর গ্যাগনিতে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরেকটি উপশহরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীও কনসার্ট থেকে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে।
প্যারিসের এই উৎসবে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে রাত ১১টার পরপরই প্রথম ঝামেলা শুরু হয়। স্টিভ নামে এক ব্রিটিশ প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাস্তাগুলো বিপজ্জনকভাবে জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং দাঙ্গাবাজরা এর পূর্ণ সুযোগ নেয়। তরুণদের একটি দল মানুষকে আচমকা ঘুষি মারতে শুরু করলে হুড়োহুড়ি লেগে মানুষ পিষ্ট হওয়ার মতো চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। সিন নদীর ওপারে সেন্ট জার্মেই দে ফ্রেস জেলাতেও ঝামেলা তৈরি হলে জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা বার্ষিক এই বিনামূল্যে উপভোগ্য সঙ্গীত আয়োজনে মূলত অপেশাদার শিল্পীরা পারফর্ম করে থাকেন। তবে গত বছরও এই উৎসবে ব্যাপক তান্ডব এবং যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এই বছর বাস্তিল স্কয়ারের কাছসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ জোনের ব্যবস্থা করা হলেও সহিংসতা এড়ানো যায়নি। গত রাতে রাস্তায় প্রায় ৫,০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সিনিয়র সূত্র জানিয়েছে – পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ‘একদম জরুরি’ না হলে কোনো ঘটনায় হস্তক্ষেপ না করতে বলা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল


