২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জার্মানিতে একটি নতুন আইন কার্যকর হয়েছে যা ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ‘সামরিক সেবা আধুনিকীকরণ আইন’ নামক এই আইনের আওতায়, এই বয়সী পুরুষদের তিন মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে হলে আগে থেকে সরকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। অবাক করার বিষয় হলো, কয়েক মিলিয়ন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করার মতো এই বড় পরিবর্তনটি কয়েক মাস পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেনি এবং এপ্রিলের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার পর সাধারণ মানুষ এটি জানতে পারে।
জার্মানি তার সশস্ত্র বাহিনী বা বুন্দেসভেয়ারের সদস্য সংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১,৮৪,০০০ থেকে বাড়িয়ে ২,৬০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। মোবিলাইজেশন বা যুদ্ধের প্রয়োজনে সামরিক যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণরা কোথায় আছে, তা জানতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই ধরনের আইন জার্মানিতে ১৯৮৬ সাল থেকেই ছিল, তবে তা কেবল যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় কার্যকর হতো। ১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়মটি শান্তিকালীন সময়ের জন্য স্থায়ীভাবে কার্যকর করা হয়। এছাড়া এ বছর থেকে সকল ১৮ বছর বয়সী তরুণদের কাছে বাধ্যতামূলক সামরিক তথ্য অনুসন্ধানী ফরম পাঠানো হচ্ছে।
আইনটি জানাজানি হওয়ার পর জার্মান পার্লামেন্টের (বুন্দেসট্যাগ) প্রায় সকল রাজনৈতিক দল গ্রিনস থেকে শুরু করে উগ্র ডানপন্থী এএফডি তীব্র সমালোচনা শুরু করে। জনগণের ব্যাপক চাপের মুখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ঘোষণা দেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সামরিক সেবা স্বেচ্ছামূলক থাকবে, ততক্ষণ বিদেশ যাওয়ার জন্য এই আগাম অনুমতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হবে। কোনো গভীর সংসদীয় আলোচনা ছাড়াই একটি আইন কার্যকর করা এবং চাপের মুখে তা দ্রুত স্থগিত করাকে জার্মানির প্রশাসনিক ও শাসন ব্যবস্থার একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদে ইউরোপের দেশগুলো এখন পুনরায় সামরিকীকরণের দিকে ঝুঁকছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক। তবে জার্মানির এই ঘটনাটি দেখিয়েছে যে, জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ ছাড়া বড় কোনো আইনি পরিবর্তন আনলে তা রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকের আস্থায় চিড় ধরাতে পারে। প্রতিবেশী অস্ট্রিয়ার মডেলের সাথে তুলনা করে দেখা গেছে যে, সেখানে দীর্ঘ ছয় মাস বিদেশে থাকার জন্য কেবল ‘অবহিত’ করতে হয়, কিন্তু জার্মানির মতো ‘অনুমতি’ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। জার্মানিতে বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক তথ্য অনুসন্ধানী ফরম পাঠানোর বিষয়টি চালু থাকলেও বিদেশ ভ্রমণের কড়াকড়ি আপাতত তুলে নেওয়া হয়েছে।


