পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউরোপীয় আইন নিজেদের জাতীয় বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত (ট্রান্সপোজ) করতে ব্যর্থ হওয়ায় পর্তুগালের বিরুদ্ধে দুটি ‘লঙ্ঘন সংক্রান্ত মামলা’ (ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্রসিডিংস) শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
প্রথম মামলাটি করা হয়েছে হাইড্রোজেন এবং কার্বনমুক্ত গ্যাস সংক্রান্ত সংশোধিত ইউরোপীয় নির্দেশনা—‘ডিরেক্টিভ (ইইউ) ২০২৪/১৭৮৮’ পুরোপুরি কার্যকর ও তা কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করার দায়ে। ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া এই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাইড্রোজেনসহ নবায়নযোগ্য ও কম-কার্বনযুক্ত গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রকে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই নির্দেশনাটি নিজেদের জাতীয় আইনে রূপান্তর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যা মানতে ব্যর্থ হয়েছে পর্তুগাল।
দ্বিতীয় মামলায় পর্তুগালকে ‘শিল্প ও গবাদি পশুর খামার থেকে ক্ষতিকর নির্গমন’ সংক্রান্ত অপর একটি ইউরোপীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতার বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। এই আইনটিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পশুপালনের খামারগুলো থেকে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়া ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নির্গমন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্দেশনাটিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো এবং নির্গমন কমানোর নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার একটি নতুন আইনি অধিকারও যুক্ত করা হয়েছে এই আইনে।


