পর্তুগালে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জনই অতিরিক্ত ওজন অথবা স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে। দেশটিতে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় অর্ধেক (৪৪.৭%) শিশুই নিয়মিত ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছে।
পর্তুগালের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএনই) কর্তৃক প্রকাশিত ‘জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ’-এর শিশু মডিউল থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
আইএনই-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু সরাসরি স্থূলতায় এবং ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত। বিএমআই অনুযায়ী স্থূলতার হার মেয়েদের (১০.৭%) তুলনায় ছেলেদের (১৫%) মধ্যে বেশি দেখা গেছে। এছাড়া ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার (১৮.৩%), বড়দের (৭.৬%) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি স্থূলতার হার রেকর্ড করা হয়েছে অ্যাজোরেস স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (৪২.৩%) এবং সবচেয়ে কম সেতুবাল ও গ্রেটার লিসবনে (৩১.৩%)।
প্রতিবেদনে শিশুদের খাদ্য তালিকার এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশটিতে প্রতিদিন ৮১ হাজার শিশু চিনিযুক্ত পানীয় পান করে এবং ৪৯ হাজার শিশু প্রতিদিন ফাস্টফুড খায়। ৬৮% শিশু প্রতিদিন মাংস-মাছ এবং ৬৮.৬% শিশু ফলমূল খেলেও, প্রতিদিন ডাল বা শাকসবজি খায় মাত্র ৪৪.১% শিশু। এমনকি ১৩% শিশু শাকসবজি একেবারেই খায় না বললেই চলে।
জরিপে অভিভাবকদের ৯২.৩% দাবি করেছেন তাঁদের সন্তানের স্বাস্থ্য ‘ভালো’, তবে বাস্তবে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা উঠে এসেছে। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০.৭% শিশুর মনোযোগ দেওয়া বা বয়স অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। এছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী ১৪.৯% শিশু অ্যালার্জি, ৬.৮% শিশু এডিএইচডি (ADHD) এবং ৪.৬% শিশু অ্যাজমায় ভুগছে। এসব স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চার লাখেরও বেশি শিশু (৪৪.৪%) বিভিন্ন সময়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এক্সপ্রেসো


