পর্তুগাল তাদের ‘পুনরুদ্ধার ও স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনা’র (পিআরআর) অধীনে আবাসন খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ পর্তুগিজ পরিবারগুলোর কাছে ২৮ হাজারেরও বেশি আবাসন সমাধান হস্তান্তর করা হবে।
আবাসন ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে ‘১.º ডিরেইতো’ (1.º Direito – হাউজিং অ্যাক্সেস সাপোর্ট প্রোগ্রাম) কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ২৬ হাজার বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অবকাঠামো ও আবাসন এবং অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সংহতি মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আরও প্রায় ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মোট সম্পন্ন হওয়া আবাসন সমাধানের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছাবে।
সরকার অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, এই ২৮ হাজার বাড়ির সবগুলোই নতুন করে নির্মিত সরকারি আবাসন নয়। এর মধ্যে ‘১.º ডিরেইতো’ কর্মসূচির আওতায় সমর্থিত সব ধরনের আবাসন সমাধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে সরকারের ‘কনস্ট্রুইর পর্তুগাল’ কর্মসূচির অধীনে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন পৌরসভার সঙ্গে চুক্তি এবং দ্রুত গতিতে চলা প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিশেষ নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সাফল্যে কেন্দ্রীয় সরকার, আবাসন ইনস্টিটিউট আইএইচআরইউ এবং স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর মধ্যকার যৌথ সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ অর্থ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুনরুদ্ধার তহবিল একা সব প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায়, পিআরআর-এর ১.৪ বিলিয়ন ইউরোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে আরও ২.৮ বিলিয়ন ইউরো যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সংহতি মন্ত্রী কাস্ত্রো আলমেইদা বলেন, এই কর্মসূচির ফলে ‘দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং উপকূল থেকে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে থাকা পর্তুগিজ পরিবারগুলোর হাতে ২৮ হাজারেরও বেশি ঘর তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
অবকাঠামো ও আবাসন মন্ত্রী মিগুয়েল পিন্টো লুজ জানান, সরকার দেশের সরকারি আবাসন নীতিগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করছে এবং ঘরবাড়ির সামগ্রিক সরবরাহ বাড়িয়ে তুলছে।
সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি আবাসন খাতের জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী ভাড়ার জন্য প্রায় ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণ এবং বিভিন্ন পৌরসভার স্থানীয় আবাসন কৌশলগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় আবাসন কৌশলগুলোর মাধ্যমে পর্তুগালজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার পরিবারের বাসস্থানের চাহিদা চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাবস্ক্রাইব
নোটিসিয়াস বাংলায় প্রকাশিত সব খবর নিয়মিত জানতে সাবস্ক্রাইব করুন
রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আরও খবর
আপনার মতামত দিন


