ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্তুগালের লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে দেশটিতে।
পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস খতিয়ে দেখছে, ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে পর্তুগাল কোনো আইন বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) পর্তুগালের পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশটির বিরোধী দল লেফট ব্লক এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়।
দলটি লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের বৈধতা খতিয়ে দেখতে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।
লেফট ব্লকের অভিযোগ, লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে পর্তুগাল আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের আইন লঙ্ঘন করেছে। দলটির সমন্বয়ক জোসে ম্যানুয়েল পুরেজা বলেন, সরকার হয় আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি মেনে নিয়েছে, নয়তো এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার মতো রাজনৈতিক দৃঢ়তা সরকারের নেই।
তবে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রেঞ্জেল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের চুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘাঁটিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আইন লঙ্ঘন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জোসে ম্যানুয়েল পুরেজা। তার মতে, লাজেস বিমানঘাঁটি আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়নি এবং ঘাঁটি ব্যবহারের চুক্তি যথাযথভাবে মানা হয়েছে—এই দুটি দাবিই বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।
এদিকে, তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুরেজা।
তবে তদন্ত শুরু হওয়াকে লেফট ব্লকের অভিযোগের গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস তদন্ত শুরু করায় অভিযোগটি খতিয়ে দেখার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
লাজেস বিমানঘাঁটি আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চুক্তি অনুযায়ী, শান্তিকালে ঘাঁটিটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সংঘাতের সময় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্তুগালের অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


