প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে এক যুগান্তকারী ‘রাইট টু ট্রাই’ বা ‘চেষ্টার অধিকার’ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ সরকার। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এই নতুন নীতির ফলে, এখন থেকে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কাজ শুরু করলে বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হলে ভাতার ওপর তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। মূলত সরকারি সহায়তা বা ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কাটিয়ে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করতেই এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতদিন যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই আশঙ্কায় কাজে যোগ দিতেন না যে, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া মাত্রই তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতার পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন আইনের আওতায়, এখন থেকে কেউ চাকরিতে যোগ দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার ভাতার পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না। এই সুবিধাটি এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাওয়েন্স, পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট এবং ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এর স্বাস্থ্য খাতের সুবিধাভোগীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস বলেন, “মানুষ কাজ করতে আগ্রহী হলেও ভাতা হারানোর ভয় তাদের পিছিয়ে রাখছে। আমরা এই মানসিক বাধা দূর করে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিতে চাই।” তবে প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি সংস্থা ‘স্কোপ’ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কেবল আইন করলেই হবে না, কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ এবং নিয়োগকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের স্বাস্থ্য খাতের ভাতা কমানোর যে বিতর্কিত পরিকল্পনা চলছে, তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন অধিকার কর্মীরা।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


