মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা অভিবাসীদের জন্য বড় ধরণের আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘পাবলিক বেনিফিট’ বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। গত ২১শে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও ভেটিং প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো কোনো অভিবাসী যেন আমেরিকায় প্রবেশ করে বেআইনিভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করে তা নিশ্চিত করা। তবে এই স্থগিতাদেশের মধ্যেও আশার কথা হলো, আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং কনস্যুলার সেকশন যথারীতি ইন্টারভিউ শিডিউল প্রদান করবে। এছাড়া, টুরিস্ট বা অন্য যেকোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর এই নতুন নীতির কোনো প্রভাব পড়বে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা ইতিমধ্যে বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা হাতে পেয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হয়নি। তবে নতুন করে ভিসা স্ট্যাম্পিং বা ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনার সময় পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই বিশেষ স্থগিতাদেশ থেকে আমেরিকার নাগরিকদের দ্বারা দত্তক নেওয়া শিশু এবং যাদের তালিকায় নেই এমন অন্য কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। আমেরিকার এই নতুন ইমিগ্রেশন পলিসি নিয়ে প্রবাস গমনেচ্ছুদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও সঠিক তথ্য ও আইনি পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: ইউএস এম্বাসি ঢাকা


