ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি এক ভয়াবহ জনতাত্ত্বিক সংকটের মুখে পড়েছে। দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে জন্মহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ক্রমাগত চার বছর ধরে চলা এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশটির ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার, পেনশন ব্যবস্থা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
২০২৫ সালে জার্মানিতে প্রায় ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। অন্যদিকে, গত বছর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষেরও বেশি। ফলে জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধান বা ‘বার্থ ডেফিসিট’ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার, যা দেশটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড। বর্তমানে জার্মানিতে প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.৩৫, যা একটি স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১ হারের চেয়ে অনেক নিচে। আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামবুর্গ ছাড়া দেশের প্রায় প্রতিটি অংশেই জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া তুলনামূলক ছোট প্রজন্ম এখন সন্তান জন্মদানের মূল বয়সে পৌঁছানোয় প্রজননক্ষম নারীর সংখ্যা কমে গেছে। তবে জার্মান ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশন এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের ‘পরিবার-বিমুখ’ নীতিমালাকে দায়ী করেছে। তাদের মতে, সন্তান লালন-পালনের উচ্চ ব্যয় এবং পেনশন নীতিতে মায়েদের প্রতি বৈষম্য মানুষকে সন্তান নিতে নিরুৎসাহিত করছে। সংস্থাটি অবিলম্বে ‘প্যারেন্টাল পেনশন’ প্রবর্তন এবং শিশু ভাতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের ঝুঁকি থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের দীর্ঘমেয়াদী প্রজেকশন বলছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৭০ সালের মধ্যে জার্মানির জনসংখ্যা ১০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, কেবল অভিবাসন দিয়ে এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণ করা সম্ভব হবে না। জার্মানির এই পরিস্থিতিকে সমাজবিজ্ঞানীরা একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা পুরো ইউরোপের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
তথ্যসূত্র: ডি ডব্লিউ


