২০২৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটির রাজনৈতিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে গেল গত রোববারের (২২ মার্চ) পৌরসভা নির্বাচনে। এই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ফলাফল বলছে, রাজধানী প্যারিসে সমাজতান্ত্রিকদের আধিপত্য এখনো অটুট। সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়ার তার রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিদা দাতিকে পরাজিত করে বড় জয় পেয়েছেন। বিদায়ী মেয়র অ্যান হিদালগোর উত্তরসূরি হিসেবে গ্রেগোয়ারের এই জয় প্যারিসে বামপন্থী শাসনের সময়কালকে টানা ২৫ বছর বা এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করল।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিস (Nice)-এ দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে অতি-ডানপন্থী দল ‘ন্যাশনাল র্যালি’ (RN) এবং তাদের মিত্র এরিক সিওত্তি বড় জয় পেয়েছেন। ফ্রান্সের পঞ্চম বৃহত্তম এই শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানো মূলধারার ডানপন্থীদের জন্য একটি বড় প্রতীকী পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অতি-ডানপন্থীরা মার্সেই, তুলো এবং নিম-এর মতো বড় শহরগুলো দখলের লক্ষ্য নিয়ে নামলেও সেখানে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেই-তে বর্তমান সমাজতান্ত্রিক মেয়র বেনোয়া পায়ান তার আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে লিওঁ শহরেও গ্রিন মেয়র গ্রেগরি ডুসেট এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর জয়ী হয়েছেন। মূলত অতি-ডানপন্থীদের ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে বামপন্থী ও পরিবেশবাদী দলগুলোর মধ্যে ‘কৌশলগত জোট’ এবং প্রার্থী প্রত্যাহার এসব শহরে বামপন্থীদের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোর শিবিরের জন্য এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল বেশ অম্ল-মধুর। একদিকে বর্দো শহরে রেনেসাঁ প্রার্থী থমাস কাজেনাভের জয় তাদের স্বস্তি দিলেও, পাউ শহরে দীর্ঘদিনের মিত্র ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পরাজয় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ল্য অভ্র শহরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপের বিশাল জয় তাকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
সামগ্রিকভাবে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৮.১ শতাংশ। এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ফ্রান্সের রাজনীতি এখন চারটি প্রধান ধারায় বিভক্ত—প্রগতিশীল বামপন্থী, তৃণমূলের শক্তিশালী মূলধারার ডানপন্থী, অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া মধ্যপন্থী এবং ক্রমবর্ধমান অতি-ডানপন্থী শক্তি। এই চার শক্তির লড়াই-ই নির্ধারণ করবে আগামী বছর কে বসছেন এলিসি প্রাসাদের সিংহাসনে।


