ইউরোপীয় ইউনিয়নে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ২ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি যৌন সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৭ শতাংশ। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যৌন সহিংসতার ঘটনা ৯৪ শতাংশ এবং ধর্ষণের ঘটনা ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং সুইডেনে এই অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও গবেষকরা মনে করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আগের চেয়ে বেশি মানুষ থানায় অভিযোগ জানাতে আসছেন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ধর্ষণের একটি অভিন্ন ও আধুনিক সংজ্ঞা নির্ধারণের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যা মূলত “Only yes means yes” (কেবল ইতিবাচক সম্মতিই সম্মতি হিসেবে গণ্য) নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নতুন এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভয়ভীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা সহিংসতার মাধ্যমে আদায় করা কোনো বিষয়কে প্রকৃত সম্মতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ইতিমধ্যে ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো তাদের জাতীয় আইনে এই ‘সম্মতি-ভিত্তিক’ পরিবর্তন প্রবর্তন করেছে।
ফ্রান্সে এই আইনি পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ২০২৪ সালের বহুল আলোচিত ‘জিলে পলিকট’ মামলা। নিজের স্বামীর সহযোগিতায় এক দশক ধরে অর্ধশতাধিক পুরুষের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়া জিলের এই ঘটনা দেশটির প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় ‘সম্মতি’র বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদিকে লাটভিয়ায় নারীদের সুরক্ষা বিষয়ক ‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও দেশটির রাষ্ট্রপতি এডগারস রিঙ্কেভিচ তাঁর বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার জন্য সংসদে পাঠিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, ইইউ এখন অপরাধ দমনের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


