সুইডেনের নাগরিকত্ব লাভের পথ আরও সংকুচিত করতে বিতর্কিত এক নতুন আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। আগামী ৬ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনে আয়ের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ, বসবাসের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ভাষার দক্ষতার মতো কঠোর শর্তাবলি যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশটিতে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
নতুন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য সুইডেনে বসবাসের ন্যূনতম সময়সীমা বর্তমানের ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীকে করপূর্ব মাসিক অন্তত ২২,০০০ ক্রোনার (প্রায় ২,০৩৭ ইউরো) আয় করার প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি সুইডিশ ভাষা এবং সেদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অপরাধমূলক রেকর্ড বা কোনো ধরণের বকেয়া ঋণ থাকলে আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ যারা নাগরিকত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ওপরও এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
এই আইন পাস করা নিয়ে সুইডেনের রাজনীতিতে তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। বিরোধী দল ‘সো্যাল ডেমোক্র্যাটস’ অভিযোগ করেছে যে, উগ্র-ডানপন্থী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ পার্লামেন্টের প্রচলিত ‘পেয়ারিং সিস্টেম’ লঙ্ঘন করে এই আইন পাস করেছে, যাকে তারা ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুইডেনের এই কড়াকড়ি এমন এক সময়ে এল যখন প্রতিবেশী আয়ারল্যান্ডেও অভিবাসন নীতি ও বেকার ভাতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপজুড়ে অভিবাসন আইনের এই ধারাবাহিক কঠোরতা প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
তথ্যসূত্র: গ্রিপ্ট


