পর্তুগালে যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যায় বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ‘নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ১,৫৩৬ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে—যা পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এই তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের তুলনায় সংক্রমণের হার প্রায় ৩১.৮ শতাংশ কমেছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেও জনমিতিক কিছু চ্যালেঞ্জ এবং চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পর্তুগালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে আক্রান্তের হার ১৪.৩ জন। যক্ষ্মাজনিত মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে লিসবন; ২০২৪ সালে এ রোগে ৫০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম। তবে আক্রান্তদের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লিসবন, ভ্যালে দো তেজো এবং উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অস্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থাকেই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিএস-এর এই প্রতিবেদনে অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতীয় গড়ের তুলনায় অভিবাসীদের মধ্যে আক্রান্তের হার ২.৭ গুণ বেশি। ২০২৪ সালে মোট আক্রান্তের ৩৯.১ শতাংশই ছিলেন অভিবাসী, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। বিশেষ করে অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল এবং গিনি-বিসাউ থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লিসবন ও পোর্তোতে বিশেষ রেফারেন্স সেন্টার চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ সোফিয়া সুসা একটি বড় উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন—লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করতে গড়ে ৮১ দিন সময় লাগছে। এই বিলম্ব সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে যক্ষ্মা চিকিৎসার সাফল্যের হার ৮২.১ শতাংশ হলেও, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই গতি আরও ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ; তাই দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সামাজিক কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


