মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে জার্মানিতে নতুন করে শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ‘ফোরসা ইন্সটিটিউট’ এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, জার্মানির প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ইরান থেকে বড় কোনো শরণার্থীর স্রোত এলে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা এই মুহূর্তে দেশটির নেই। বিশেষ করে রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ জোট এবং কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি এর সমর্থকদের মধ্যে এই সংশয় সবচেয়ে বেশি। এমনকি মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশও জার্মানির বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জরিপে দেখা গেছে, একমাত্র গ্রিন পার্টির সমর্থকরাই অতিরিক্ত শরণার্থী আগমনে কোনো বড় ধরণের সংকটের আশঙ্কা করছেন না। উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই সবচেয়ে বড় ইরানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বাস, যার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই জার্মানির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অতীতে ২০১৫-১৬ সালে সিরিয়া-ইরাক সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জার্মানি ১০ লক্ষাধিক মানুষকে আশ্রয় দিলেও, বারবার এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এখন দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে দমন-পীড়ন তীব্রতর হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইরনা’ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এবং অনলাইনে সরকারবিরোধী কন্টেন্ট শেয়ার করার দায়ে চলতি মাসে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানি পুলিশ। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে যে ইরান থেকে এখনো গণ-দেশত্যাগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তবুও জার্মান নাগরিকদের মধ্যে ভীতি কাটছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানির জনমত এখন সরাসরি অভিবাসন নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন এবং ডানপন্থি দলগুলোর উত্থানের মুখে ওলাফ শলৎসের সরকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া একটি বড় পরীক্ষা। যুদ্ধের ভয়াবহতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইরান থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ে, তবে ইউরোপের বৃহত্তম এই অর্থনীতির দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


