পর্তুগালের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘শেগা’র একজন সাবেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দেশটির পুলিশি গোয়েন্দা বিভাগ ব্রাগা জেলা থেকে ২৭ বছর বয়সী এই যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের নির্দেশে তাকে বর্তমানে বিচারপূর্ব আটকে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তি গত স্থানীয় নির্বাচনে শেগা দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলেন, যা পর্তুগিজ রাজনীতিতে বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই যুবক তার নিজের নিকটাত্মীয় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাতেন। গ্রেপ্তারের সময় তার বাড়ি থেকে কম্পিউটার ও হার্ড ড্রাইভসহ শত শত পর্নোগ্রাফিক ফাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, কিছু ভিডিওতে অত্যন্ত কম বয়সী শিশুদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের চিত্র পাওয়া গেছে। পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্যদের সাথে শেয়ার করতেন, যা একটি বড় ধরণের অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অভিযুক্ত যুবকের পেশা পিৎজা ডেলিভারিম্যান হলেও নির্বাচনের সময় দল তাকে ‘গুদাম রক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—তিনি পরিবারের এক শিশুর ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক নারীর অজান্তেই তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছিলেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পর্তুগালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং শেগা দলের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বর্তমানে পুলিশ এই অপরাধচক্রের বিস্তৃতি এবং এর সাথে অন্য কোনো বড় নেটওয়ার্ক জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে। শেগা দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বড় প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে কট্টরপন্থী এই দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ এখন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


