ইরান বনাম ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের উত্তপ্ত ময়দান থেকে আকস্মিকভাবে বিদায় নিল বিশ্বের বৃহত্তম এবং সর্বাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। সোমবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে জাহাজটি নোঙর করেছে। গত ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রি রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং অদ্ভুত সব যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই ‘সমুদ্র দানব’কে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে পেন্টাগন। তবে যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ফোর্ডকে সরিয়ে নেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা এই রণতরিটি সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করছিল। তবে কেবল অগ্নিকাণ্ডই নয়, জাহাজটির ভেতরে টয়লেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নাবিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। শত শত কোটি ডলারের এই জাহাজে টয়লেট জট লেগে যাওয়ায় নৌবাহিনীর কর্মীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পেন ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক নীতি কর্মসূচির পরিচালক ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, “দীর্ঘ সময়ের জন্য ফোর্ডকে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া মানে হলো যুদ্ধচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা বলয় দুর্বল হয়ে পড়া।”
এদিকে, রণতরিটির এই বেহাল দশা এবং দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েন নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার সরাসরি আঙুল তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। তিনি দাবি করেছেন, নাবিকেরা এখন ‘খাদের কিনারে’ দাঁড়িয়ে আছেন এবং তারা মূলত ট্রাম্পের বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছেন। ফোর্ড চলে গেলেও বর্তমানে ওই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ মোতায়েন রয়েছে, তবে ফোর্ডের অভাব কতটা সামাল দেওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।


