আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির জয়জয়কার এবার দেখল ইউরোপ। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর যৌথ সামরিক মহড়া ‘স্ট্রং ইমপ্যাক্ট ২০২৬’-এ নিজেদের তৈরি বিশেষায়িত ‘অ্যাটাক ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পর্তুগিজ সেনাবাহিনী। পর্তুগালের সান্তা মারগারিদা সামরিক ক্যাম্পে গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহড়ায় পর্তুগিজ প্রতিষ্ঠান ‘ইউএভিশন’ এর সহযোগিতায় তৈরি এই ‘লয়টারিং মিউনিশন’ বা বিশেষ ঘাতক ড্রোনগুলো পরীক্ষা করা হয়।
পর্তুগিজ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল হেল্ডার পারসেলাস জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘সার্চ-দেন-স্ট্রাইক’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ, ড্রোনটি যতক্ষণ না নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পাচ্ছে, ততক্ষণ এটি আকাশে উড়তে থাকবে। অপারেটর সরাসরি লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি বা কোলাটেরাল ড্যামেজ কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে পর্তুগালের তৈরি ‘এলানাস’ ড্রোনটি টানা ৩০ মিনিট আকাশে উড়ার পাশাপাশি ৩ কেজি ওজনের বিস্ফোরক নিয়ে ৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
এই মেগা মহড়ায় পর্তুগালের ৩২০ জন সেনাসদস্য ছাড়াও স্পেনের ৯১ জন এবং ফ্রান্সের ৪ জন তুখোড় সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। ন্যাটোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পর্তুগাল তাদের এই ড্রোন প্রযুক্তিকে আটলান্টিক অ্যালায়েন্সের প্রতি এক শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকে এই ধরণের ‘সুইসাইড ড্রোন’-এর গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে বেড়ে গেছে, আর পর্তুগালের এই স্বনির্ভরতা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।


