বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এক অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে ইইউ-এর কাছে প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও ৩ বছর বাড়ানোর জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইইউ কমিশনার মারোস সেফকোভিচ বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও আরব আমিরাতের সঙ্গেও সমান্তরাল আলোচনা চলছে। ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধিত শ্রম আইন শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে। বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং ইইউ-এর ট্রেড ডিরেক্টর জেনারেল সাবিন ওয়েয়ান্ডসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই নীতিগত ঐক্যে একমত পোষণ করেন।


