পবিত্র ইস্টার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্তুগালের সৈকতগুলোতে যখন পর্যটকদের ঢল নামছে, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা জারি করেছে পর্তুগিজ লাইফগার্ড ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি আলেক্সান্দ্রে তাদেইয়া জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহ পর্তুগালের সমুদ্র সৈকতগুলোতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর জন্য বছরের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং স্কুল-কলেজ ছুটি থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ সমুদ্র সৈকতে গেলেও, এই সময়ে অধিকাংশ সৈকতে কোনো লাইফগার্ড বা উদ্ধারকর্মী মোতায়েন থাকে না যা প্রাণহানির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেপন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ইস্টারের এই পাক্ষিকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার দুই থেকে চারগুণ বেশি থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের ঠিক এই সময়ে পর্তুগালে ২০ জন পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন। ফেডারেশন জানায়, লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান নেই এমন স্থানেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে পর্তুগালে মোট ১২১ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২১.৫ শতাংশ মৃত্যুই রেকর্ড করা হয়েছে এপ্রিল মাসে।
আলেক্সান্দ্রে তাদেইয়া জোর দিয়ে বলেছেন, কেবল গ্রীষ্মকালীন ‘স্নানের মরসুম’ নয়, বরং সারা বছর সৈকতগুলোতে লাইফগার্ডের টহল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ হিসেবে ‘নাজারে’ সৈকতের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সারা বছর নজরদারি থাকায় মরসুমের বাইরে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ইতিমধ্যে ৪৯ জন মারা গেছেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তাই পর্যটকদের প্রতি ফেডারেশনের কড়া নির্দেশ “অত্যন্ত সতর্ক থাকুন এবং এই মুহূর্তে পানির কাছে যাবেন না,” কারণ সমুদ্রের বর্তমান পরিস্থিতি বিনোদনের জন্য মোটেই অনুকূল নয়।


